‘অনুমতি না দিলে ও জনসভা করব’

অনুমতির মারে বাপ অনুমতি না দিলে ও জনসভা করব। পুলিশ কি করে দেখার আছে। ওদের হাতে যেমন অস্ত্র আছে তেমনি আমাদের হাতে ও অস্ত্র আছে। মরতে হয় মরবো কিন্তু একা নহে সাথে পুলিশকে ও মেরে মরবো।

Robert Bruce নামক একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী এই মন্তব্য করেন ।

সমাবেশ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির অপেক্ষায় বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারস খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সোমবার সমাবেশের অনুমতির জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।

রোববার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে যায় তিন সদস্যের এই প্রতিনিধিদলটি। প্রতিনিধি দলের ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আবদুস সালাম ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ।

প্রতিনিধিদল সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশের অনুমতির বিষয়টি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি না বলা হয়নি। তারা বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাবেশের অনুমতি নিতে হবে।

জানাতে চাইলে আবদুস সালাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা সমাবেশের অনুমতির জন্য পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের বলা হয়েছে পরে জানানো হবে।’

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিকেল সাড়ে তিনটায় এক সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে।

এতে বক্তব্য দেবেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে আগামীকাল সোমবার বিএনপির সমাবেশের অনুমতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হতে পারে বলে ধরণা করা হচ্ছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই আদালত বিএনপি প্রধানের ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামির ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।

ওইদিন থেকেই বিএনপি প্রধান পুরানো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

যে কারনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ‘মনস্তাত্ত্বিক’ চাপ বাড়াতে চায় আ. লীগ

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ‘মনস্তাত্ত্বিক’ চাপ বাড়াতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে সরকারবিরোধী দলটির নেতাকর্মীদের কর্মসূচিকে চার দেয়ালে বন্দি রেখে নির্বাচনি মাঠ গুছিয়ে এগিয়ে থাকতে চান ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের মতে, দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের কারণে ‘মনস্তাত্ত্বিক’ চাপে পড়েছে বিএনপি।

এই চাপ আরও বাড়ানো গেলে মাঠের রাজনীতিতেও দুর্বল হয়ে পড়বে সরকারবিরোধী দলটি। এ কারণেই আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এই চাপ ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ।

এরই অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলোতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একই উদ্দেশ্যে দলটির নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ও অব্যাহত রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি জেলায়-জেলায় চলছে আওয়ামী লীগের জনসভা, শো-ডাউন। এসব জনসভায় বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। ইতোমধ্যে মার্চ ও এপ্রিল মাসে আরও ৫ জেলায় জনসভার তারিখ ঠিক করেছে ক্ষমতাসীন দলটি।

জানা গেছে, জেলায় জেলায় আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠিত জনসভাগুলোয় নির্বাচনি জনসংযোগ ছাড়াও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যও রয়েছে।

এ কারণেই এসব জনসভায় বিএনপির দুর্নীতি-দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের বিষয়টিও তুলে ধরছেন ক্ষমতাসীনরা। তবে প্রকাশ্যে এই কৌশলের কথা স্বীকার করতে রাজি হচ্ছেন না আওয়ামী লীগের কোনও নেতাই।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগৈর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল দুর্বল করতে আওয়ামী লীগের কোনও কৌশলের প্রয়োজন নেই।

দুর্নীতির দায়ে যেদিন খালেদা জিয়াকে আদালত শাস্তি দিয়েছেন, সেদিনই বিএনপির নেতাকর্মীদের মনস্তাত্ত্বিক চাপ বেড়েছে। তারা নৈতিকভাবেও সেদিন থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।’

একই মন্তব্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাকেরও। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেতাদের মনস্তাত্ত্বিক চাপ বেড়েছে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কৌশল নেওয়ার কোনও দরকারই নেই।’

নীতি-নির্ধারকরা আরও জানান, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ কারাবাসের কারণে বিএনপির নেতাদের মনোবল চরম দুর্বল করেছে। একইসঙ্গে প্রতিবাদ করার সুযোগ না পাওয়াও দলটির নেতাকর্মীদের মনোবলে আঘাত এসেছে। যা ভোটের মাঠে ক্ষতির মুখোমুখি করবে বিএনপিকে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জানান,

আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপিকে অসংগঠিত রাখা আওয়ামী লীগের অন্যতম কৌশল। এরই অংশ হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভেতরে মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতে পারলে বিএনপিকে অসংগঠিত করার কাজে সফলতা আসবে। একদিকে মাঠে চলবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি, অন্যদিকে বিএনপির কর্মসূচি থাকবে চার দেয়ালে বন্দি। এতেই রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে বিএনপি।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, খালেদা জিয়ার দুর্নীতির দায়ে যখনই শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে, তখনই তাদের সব স্তরের নেতাকর্মীদের ভেতরে মনস্তাত্ত্বিক চাপ বেড়েছে। দুর্নীতির দায়ে যখন দলের শীর্ষ নেতাদের সাজা হয়, তখন মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীরা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। যখন দেখছে খালেদাকে কারামুক্ত করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে,

তখন আরও ভেঙে পড়তে শুরু করে তাদের মনোবল। আর আওয়ামী লীগের জন্য এটাই পুঁজি। ওই দুই নেতা আরও বলেন, খালেদা জিয়ার কারাবরণ অন্য নেতাদের ভেতরে ভয়ের সঞ্চার করেছে। যেখানে দলটির বড় নেতারই রেহাই হয়নি, সেখানে মধ্যম সারির নেতারা কতটা রেহাই পাবেন, সেই দুশ্চিন্তাও রয়েছে বিএনপির মধ্যে। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, বিএনপির অনেক নেতাই নিজেদের রেহাই পাওয়ার রাস্তা বের করা নিয়ে এখন ব্যস্ত।

এই প্রসঙ্গ জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপিকে নিয়ে এখন আওয়ামী লীগের কোনও পর্যায়েই ভাবছে না। খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর এ দলটির নেতারা দুর্নীতিবাজ হিসেবেই স্বীকৃত। তাদের মনস্তাত্ত্বিক চাপ বেড়েই চলছে।’ তিনি বলেন, ‘যেখানে মাথাই পচনশীল, সেখানে সে দলটির নেতাকর্মীরা চাপমুক্ত থাকে কিভাবে?’