‘আপনাদের কাছে কোনটা বড়? বেগম জিয়া নাকি বিএনপি?

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনাদের কাছে কোনটা বড়? বেগম জিয়া নাকি বিএনপি? কোনটা আপনাদের কাছে মুখ্য। সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাদের।’

বেগম খালেদা জিয়াকে রক্ষা করতে গিয়ে বিএনপিই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় কিনা সেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের এই প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে শাহ এস এম কিবরিয়ার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায় প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তারা (বিএনপির নেতারা) মাঠ গরম করছে। টেলিভিশনের পর্দা গরম করছে। টকশোর পর্দা ফাটিয়ে দিচ্ছে। আদালতকে হুমকি দিচ্ছে। বেগম জিয়া শাস্তি হবে কিনা এটা আদালত জানে। তারা বলে শাস্তি হলে আগুন জ্বলবে। তাদের এসব বক্তব্যের জন্য আদালত ব্যবস্থা নিবেন আশা করি।’

আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন দাবি করে সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা পর্যন্ত আদালতের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। কেউ জেলও খেটেছে। কিন্তু বেগম জিয়া আদালতকে হেনস্তা করেছেন। দেশে থেকে বার বার সময় নিয়েছেন। এভাবে বার বার আদালতের কাছে সময় নেয়ার রেকর্ড গড়েছেন।’

বিএনপির নেতাদের ডাকে কোন কর্মী মাঠে আসবেন না দাবি করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ‘যারা আন্দোলনের ডাক দিয়ে এসি রুমে বসে হিন্দি সিনেমা দেখে তাদের ডাকে কোন কর্মী মাঠে আসবে না। বিএনপির নেতাদের এসব তর্জন-গর্জন বর্ষাকালের ব্যাঙের ডাকের মত। বিএনপির জন্য এখন রাজনীতিতে বর্ষা কাল।’

বিএনপি যদি খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে দেশে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাহলে জনগণ প্রতিহত করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন হাছান মাহমুদ।

সংগঠনের সভাপতি চিত্রনায়ক ফারুকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য চিত্রনায়িকা সাহারা বেগম কবরী, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার প্রমুখ।

এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রথমে আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে। এর পরই তিনি আপিলের আবেদন করার সুযোগ পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

রবিবার দুপুরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা সামনে রেখে এসব কথা বলেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সাধারণ একজন অপরাধী যেভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন, খালেদা জিয়াকেও সেভাবেই যেতে হবে। আত্মসমর্পণ করতে হবে, জেলে যেতে হবে; এর পর আপিলের আবেদন করবেন।

রায়ের দিন ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। এরমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও যুক্ত হলেন, তার এই মন্তব্য হয় তো আরো উত্তাপ ছড়াবে।

খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলে গত শুক্রবার সতর্ক করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলায় ‘নেতিবাচক’ কোনো রায় হলে তার পরিণতি ‘ভয়াবহ’ হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি ভুয়া, জাল নথির ওপরে সাজানো মামলা। বিএনপির চেয়ারপারসনকে মানসিকভাবে হয়রানি করার জন্য এ মামলা করা হয়েছে। দেশে আইনের শাসন থাকলে এমন মামলা আদালতে টিকতো না। তারপরও আমরা রাজনৈতিক ও আইনীভাবে মামলাটি মোকাবেলা করবো।

Leave a Reply