‘খালেদার রায়ের দিন যা করবে আ’লীগ’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার দিন রাজপথ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র আরও বলেন, খালেদা জিয়ার রায় কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে, রায়ের দিন রাজপথ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ।

উল্লেখ্য, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করবে ঢাকার পঞ্চম জজ আদালত।

দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের এ মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

বিডি২৪লাইভ/এএইচআর

‘৮ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের রায়’
বন্ধ হয়ে যাওয়া দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, এ সরকার ভিন্নমত, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। সেই প্রক্রিয়াতে তারা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন ও জালিয়াতিমূলক মামলায় আগামি ৮ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের রায় দিতে যাচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হলো বিএনপিকে আন্দোলনের মাঠ থেকে বাইরে রাখা।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার একটি আদালতে মানহানির মামলায় জামিন লাভের পর এসব কথা বলেন তিনি।

বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেখানে প্রধান বিচারপতিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়, সেখানে আদালতের কোনো মূল্য আছে এ দেশে? না-কি আইনের শাসন আছে? না-কি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে? তো এ যখন বিচার বিভাগের অবস্থা, সেখানে আপনি বিচার বিভাগে ন্যায় বিচার আশা করতে পারেন না, যদি না আপনি অতি আশাবাদী হন।

খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মামলা রাজনৈতিক মামলা, কাজেই এ মামলাটি বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা উচিত ছিল, এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে বিএনপি। দেশের জনগণ আশা করে ৮ তারিখের পরে অন্তত বিএনপি এটাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে।

দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের বিষয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমান দখলদার সরকার দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো লুটপাট করে সমস্ত টাকা-পয়সা বিদেশে নিয়ে গেছে। আজ আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরৎ পাচ্ছে না, অথচ এসব বিষয়ে বিএনপি আন্দোলনে নামতে পারেনি এখন পর্যন্ত। কাজেই সময় এসেছে বিএনপি তাদের গত কয়েক বছরের ব্যর্থতা বিবেচনা করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে এ দখলদার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে ৩৬টি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে। আইনিভাবে তিনি এসব মামলার মোকাবেলা করবেন বলে জানান।

মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস সা’দত জানান, কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেমায়েত উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে মাহমুদুর রহমান মানহানির মামলায় জামিন লাভ করেন। গত ৭ জানুয়ারি তিনি এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন লাভ করেছিলেন।

এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন, বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল খান, আমিরুজ্জামান আমির, অ্যাড. কামরুল হায়াৎ খান, অ্যাড. আলী আক্কাস, ভিপি জসিম উদ্দিনসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর পরিবার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এক হাজার কোটি টাকার মানহানির এ মামলাটি দায়ের করেন কুমিল্লা শহর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউল হাসান চৌধুরী সোহাগ।

বিডি২৪লাইভ/এমআই

Leave a Reply