হেফাজতের মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি আজ

ফিলিস্তিনের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলাম-এর আহŸানে আজ বুধবার সকাল ১১টায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে মার্কিন দূতাবাস ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত কর্মসূচি সফলের জন্য ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী সংগঠনের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহŸান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ গণসেবা আন্দোলন
পুরানা পল্টনস্থ বাংলাদেশ গণসেবা আন্দোলনের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাওলানা আকরাম আলী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নেতৃবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাঈলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তা’ অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবী জানান।

 

নেতৃবৃন্দ পাশাপাশি ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ার জোর দাবী জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, ইহুদীবাদী ইসলাঈলের এই আগ্রাসন মুসলিম বিশ্ব কোনভাবেই মেনে নেবে না। আমেরিকা ও ইসরাঈলের আগ্রাসী শক্তির বিরোধিতার লক্ষ্যে তাদের সকল পণ্য বর্জন করার আহবান করা হয়। এতে আরো বক্তব্য রাখেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মুফতী মো: তালহা, মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রহমান , যুগ্ন মহাসচিব মুফতী হেদায়াতুল্লাহ হাদী, এডভোকেট রফিকুল ইসলাম ও হাফেজ নুর মুহাম্মদ।

জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ায় আমেরিকায় হামলা করেন আকায়েদ!

আওয়ার ইসলাম: নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটানে সন্দেহভাজন বিস্ফোরণ সংঘটনকারী আকায়েদ উল্লাহ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটানে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ ঘটানো সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন বাংলাদেশি।

 

নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের দুটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সোমবার বিস্ফোরণস্থল থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ২৭ বছর বয়সি এই ব্যক্তির নাম আকায়েদ উল্লাহ।

 

দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, আকায়েদ উল্লাহ ব্রুকলিনের বাসিন্দা ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। সম্প্রতি তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে পোর্ট অথরিটির পাশে ইলেক্ট্রিকের কাজ করতেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তথ্যমতে, ভাইয়ের সঙ্গে একই বাসায় থাকেন আকায়েদ উল্লাহ। সাত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন তিনি।

 

আকায়েদ সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে অথবা বিস্ফোরণ সম্পর্কে কেউ কিছু জেনে থাকলে, হটলাইন ৮৮৮ এনওয়াইসি-এসএএফই-এ জানাতে আহ্বান জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

 

ভাড়া করা গাড়ি চালানোর লাইসেন্সধারী ছিলেন আকায়েদ। নিউ ইয়র্ক সিটির ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমোজিন কমিশনের (টিএলসি) পাবলিক অ্যাফেয়ার্স-বিষয়ক ডেপুটি কমিশনার অ্যালান জে ফ্রমবার্গ এক বিবৃতিতে সিএনএনকে জানিয়েছেন, ২০১২ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ভাড়ায় নেওয়া গাড়ি চালানোর জন্য টিএলসির লাইসেন্স ছিল আকায়েদের।

 

তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয় এবং আর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি।

 

ফ্রমবার্গ বলেন, ‘আকায়েদকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে হলুদ ট্যাক্সি ক্যাব চালানোর লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, যেহেতু ট্যাক্সি বা ভাড়ায় নিয়ে চালানো গাড়ির চালকরা স্বাধীন কন্ট্রাক্টর এবং তারা চাকরিজীবী নয়, সেহেতু আমার জানার উপায় নেই, তিনি নির্দিষ্ট কোন ঠিকানা থেকে গাড়ি চালাতেন বা লাইসেন্স নিলেও আদৌ তিনি গাড়ি চালিয়েছিলেন কিনা।’

সন্দেহভাজন হামলাকারী আকায়েদ বাড়িতে তৈরি নিম্নমানের প্রযুক্তির বিস্ফোরক বস্তু (ডিভাইস) তার শরীরের সঙ্গে বেঁধে নিয়েছিলেন। নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রাক্তন কমিশনার জেমস ও’নিল মনে করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বিস্ফোরক বস্তু ফাটিয়েছেন তিনি।

তদন্ত সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন- নিউ ইয়র্কের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এমন একজন ও নিউ সিটি কর্তৃপক্ষের আরেকজন কর্মকর্তা বলেছেন, পুলিশের কাছে আকায়েদ স্বীকার করেছেন, তিনি যেখানে কাজ করতেন, সেখানেই এই বিস্ফোরক বস্তু তৈরি করেছেন।

পুলিশের গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবিরোধী শাখার ডেপুটি কমিশনার জন মিলার বলেছেন, বিস্ফোরক বস্তুটি আসলে একটি পাইপ বোমা, যা তার শরীরের সঙ্গে বিশেষভাবে বাঁধা ছিল।

হামলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন দাবি করেছে, সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলের অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন আকায়েদ। গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণ নিয়ে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। তবে সূত্রটি নিশ্চিত করতে পারেনি, গাজায় ইসরায়েলের কোনো আক্রমণের কারণে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন।

সম্প্রতি গাজা থেকে ইসরায়েলে কিছু রকেট ছোঁড়া হলে এর জবাবে গাজায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় এর প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে এবং এ নিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

তদন্ত সম্পর্কে সরাসরি জানাশোনা আছে- আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এমন একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার কথা স্বীকার করেছেন আকায়েদ। কর্তৃপক্ষ এখন তার পটভূমি খুঁজে দেখছে।

ব্রুকলিনে আকায়েদ ও তার পরিবার যে ভবনে থাকেন, তার পাশেই একটি আবাসিক ভবনের মালিক অ্যালান বুটরিকো। আকায়েদ বেসমেন্টে থাকেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আকায়েদের বোন একতলায় এবং তার ভাই দোতলায় থাকেন। প্রতিবেশীরা বুটরিকোকে জানিয়েছেন, গত দুই রাতে তারা আকায়েদদের ভবন থেকে চিৎকার-চেচামেচির শব্দ শুনেছেন।

আকায়েদ এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তবে আহত হওয়ায় তার চিকিৎসার জন্য তাকে বেলেভ্যু হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তার হাত ও পেটের কিছু অংশ পুড়ে গেছে।

বাংলাদেশে আকায়েদের বাড়ি
বাংলাদেশে আকায়েদের বাড়িঘর বা ঠিকানা কোথায়- সে সম্পর্কে সিএনএনের খবরে কিছু বলা হয়নি। তবে রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, আকায়েদের বাড়ি চট্টগ্রামে। সেপ্টেম্বর মাসে শেষবার দেশে এসেছিলেন তিনি। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) এ কে এম শহীদুল হকের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশে তার সন্ত্রাসে জড়িত থাকার কোনো তথ্য নেই।

বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া
ম্যানহাটানের বাস টার্মিনালে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস। এক বিবৃতিতে হামলাকারীর বিচার দাবি করেছে তারা।

ফেনসিডিল কিনতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের দীর্ঘ লাইন!

২৬ সেপ্টেম্বর। কাকডাকা ভোর। রাজধানীর প্রগতি সরণিসংলগ্ন একটি আবাসিক এলাকায় সাদা পোশাকে ঘোরাফেরা করছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (নারকোটিক্স) কয়েকজন কর্মকর্তা।

গোপন সূত্রে মাদক ব্যবসার খবর পেয়ে এলাকাটির জি-ব্লকের একটি বাড়ির ওপর নজর রাখছেন তারা। সেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনাগোনা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রদের। অনেকটা লাইন ধরে বাড়িতে ঢোকার মতো অবস্থা। আবার অল্প কিছুক্ষণ পরই বেরিয়ে যাচ্ছেন সতর্ক ভঙ্গিতে। তবে শেষতক যে তথ্য পাওয়া গেল তা খুবই ভয়ঙ্কর। নিষিদ্ধ মাদকের নেশায় বাড়িটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের এমন আবাধ আনাগোনা।

বেলা তখন ১১টা। দীর্ঘ সময় নজরদারির পর বাড়িটিতে ঢোকার প্রস্তুতি শুরু হলো। নারকোটিক্সের একটি অগ্রগামী টিম জি ব্লকের ১৩ নম্বর রোডের ১৮/ই নম্বর বাড়িতে ঢুকে পড়লেন। বহুতল এই ভবনের দোতলায় একটি ফ্ল্যাটের দরজায় নক করা হল। কয়েকবার নক করার পর ভেতর থেকে পরিচয় জানতে চাইলেন কেউ একজন। বাইরে থেকে অভিযান দলের সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দিলেন। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে সালাম দিলেন টুপি পাঞ্জাবি পরিহিত মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। তাকে সরিয়ে অভিযান দলের কয়েকজন সদস্য ভেতরে ঢুকলেন। তারা গৃহকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেন।

এরপর সামনে এগিয়ে এলেন গৃহকর্তা। তার বয়স আনুমানিক ষাটের কাছাকাছি। মাদকের টিম দেখে খুবই বিক্ষুব্ধ তিনি। ইংরেজি ভাষার আমেরিকান উচ্চারণে একরকম গালাগাল শুরু করলেন। ভাবখানা এমন যে, মাদকের টিম ভুল করে কোনো এক সভ্রান্ত ব্যক্তির বাসায় ঢুকে পড়েছে। গৃহকর্তার এমন আচরণে কিছুটা বিব্রত ও বিভ্রান্ত অভিযান দলের সদস্যরা। তবে ঢুকেই যখন পড়েছেন তখন তল্লাশি না করে বেরিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। তাই নিশ্চিত হতে ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে তারা গোপন সোর্সকে আবারও ফোন করেন। সোর্স পুনরায় নিশ্চিত করলেন, ঠিকানা ও ফ্ল্যাট নম্বর সবই ঠিক আছে। তল্লাশি করলেই বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল পাওয়া যাবে।

সোর্স আরও জানায়, যিনি ইংরেজিতে অনর্গল কথাবার্তা বলছেন তিনিই মূল মাদক ব্যবসায়ী। তার নাম শহিদুজ্জামান ওরফে  নাভিদ।

এবার আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা নয়। নারকোটিক্সের কর্মকর্তারা ফের ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়লেন। সরাসরি নাভিদকে জেরা করা শুরু হল। বাংলায় প্রথম প্রশ্ন ছিল- আপনি কী করেন? নাভিদ ইংরেজিতেই উত্তর দেন। বলেন, ‘আমি একটি কলেজের প্রভাষক। গবেষণা ও লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত আছি। বোঝা গেল তিনি বাংলা বোঝেন। এরপর একের পর এক প্রশ্ন। কিন্তু তার জবাবের বেশির ভাগ শব্দ ও বাক্য ছিল হুমকিধমকিতে ভরা। তিনি বারবার বলার চেষ্টা করছিলেন অমুক মন্ত্রী তার আত্মীয়। অমুক প্রভাবশালী তার  ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা জানতে পারলে আপনাদের সবক’টার চাকরি যাবে… ইত্যাদি।

কিন্তু নিশ্চিত তথ্য থাকায় নাভিদের কথায় আর বিভ্রান্ত হননি অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জেরার সঙ্গে সঙ্গে তার ফ্ল্যাটের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়। কিন্তু প্রথম দিকে হতাশ হতে হয়। বিলাস বহুল উপকরণে সাজানো ফ্ল্যাটে মাদক ব্যবসার কোনো চিহ্ন নেই।

অভিযান যখন প্রায় ব্যর্থ, ঠিক তখনই অভিজ্ঞ সিপাই সালাউদ্দীনের নজর পড়ে নাভিদের শোবার ঘরের বিছানায়। কারণ বিছানার ম্যাট্রেস অস্বাভাবিক মোটা দেখা যায়। চাদর উঠিয়ে ম্যাট্রেসের চার দিক পরীক্ষা করতেই একদিকে বড় ফোকর দেখা যায়। ফোকরের মুখে আলগা কাপড় দিয়ে ঢাকা।

সেটা সরাতেই দেখা যায়, ম্যাট্রেসের ভেতর সারি সারি ফেনসিডিলের বোতল। সেখান থেকে বের করা হয় ৫০ বোতল। খাটের নিচে বিশেষ ব্যবস্থায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায় আরও ৫০ বোতল। অগত্যা নাভিদের হাতে হাতকড়া পরাতে বেশি একটা সময় নেননি অভিযান টিমের সদস্যরা।

ঘটনাস্থলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এবার নাভিদের চেহারা ভিন্ন। একেবারে ৩৬০ ডিগ্রির বিপরীতে। হাতজোড় করে ক্ষমা চাওয়া শুরু করেন। বলেন, আমি এই ব্যবসা ছেড়ে দিব। এবারের মতো আমাকে ছেড়ে দেন। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষেরও প্রলোভন দেন। কিন্তু নারকোটিক্সের কর্মকর্তারা নাছোড়বান্দা। নাভিদকে গ্রেফতারের খবর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদেরও গ্রেফতারের নির্দেশ আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে নাভিদ জানান, তিনি আদৌ কোনো শিক্ষক নন। তবে ব্যবসার সুবিধার্থে তিনি শিক্ষকের ছদ্মবেশ নিয়েছেন। কারণ তার মূল ক্রেতা পার্শ্ববর্তী দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দিনভর প্রচুর ছাত্র তার ফ্ল্যাটে ফেননিডিল কিনতে এলেও আশপাশের বাসিন্দারা সন্দেহ করেন না। প্রতিবেশীরা মনে করেন, শিক্ষকের কাছে ছাত্ররা পড়ালেখার জন্যই আসে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, নাভিদকে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালেই সেখানে ফেনসিডিল কিনতে এসে একে একে আটক হন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী। পরে তাদের শিক্ষাজীবনের কথা চিন্তা করে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

নারকোটিক্সের কর্মকর্তারা জানান, নাভিদ সাধারণ কোনো মাদক ব্যবসায়ী নন। তিনি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও মাদকের বিশবাষ্প ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। নিজের ফ্ল্যাটে মাদক ব্যবসা ছাড়াও প্রগতি সরণিতে তিনি নিজস্ব এজেন্টের মাধ্যমে অভিনব উপায়ে ভ্রাম্যমাণ ফেনসিডিল বিক্রি করেন। এ এলাকায় তার একাধিক মোটরসাইকেল এজেন্টও আছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা নাভিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রগতি সরণি থেকে শাহিন ও শান্ত নামের দুই এজেন্টকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। তাদের কাছ থেকে ১০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

অভিযান দলের নেতৃত্বদানকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ইন্সপেক্টর একেএম কামরুল ইসলাম জানান, নাভিদ বেশ কয়েক বছর আগেও মাদক ব্যবসা করতেন। মাঝখানে এ ব্যবসা ছেড়ে জীবিকার উদ্দেশে কানাডায় পাড়ি জমান। কিন্তু বিদেশে সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। এরপর ফের নেমে পড়েন পুরনো মাদক ব্যবসায়।

এবার তার সঙ্গে এসএম সামসুল আলম ওরফে সজিব নামের আরেকজন বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠতা হয়। সজিবের সঙ্গে নাভিদ যৌথভাবে মাদক ব্যবসা করেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেনসিডিলের চালান আনেন সজিব। আর ফ্ল্যাটে খুচরা ও পাইকারিভাবে বিক্রি করেন নাভিদ।

দিনভর টানা অভিযানের একপর্যায়ে বিশেষ কৌশলে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ সজিবকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। পরে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের ফেনসিডিল ‘মোকাম’ থেকে তিনি মাসে কয়েকবার ফেনসিডিলের চালান আনেন। এ জন্য প্রিমিও ব্র্যান্ডের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে থাকেন। আর পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি ওই গাড়িতে র‌্যাবের যানবাহনে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের হর্ন লাগান। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের দু’জন বড় মাপের ফেনসিডিল ব্যবসায়ীর নাম বলে দেন তিনি। এদের একজনের নাম নবির হোসেন এবং অপরজন মিজানুর রহমান।

গ্রেফতারকৃত সজিব বলেন, নারায়ণগঞ্জের এ দু’জন মাদক ব্যবসায়ী মূলত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফেনসিডিলের অর্ডার নিয়ে থাকেন। পরে তাদের গ্রেফতারের জন্য কৌশলের আশ্রয় নেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ জন্য সজিবের মোবাইল থেকে ফেনসিডিলের অর্ডার দেয়া হয়।

এরপর অপেক্ষা চলতে থাকে। দেড় ঘণ্টার মধ্যেই মোটরসাইকেলযোগে ফেনসিডিল নিয়ে হাজির হন নবির ও মিজান। মেহেদী মার্টের সামনে এসে তারা ফেনসিডিল ডেলিভারি নেয়ার জন্য সজিবের মোবাইলে কল দেন। এরপর ক্রেতার ছদ্মবেশে গিয়ে তাদের দু’জনকেও গ্রেফতার করেন মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ইন্সপেক্টর মোজাম্মেল হক।

এরপর গ্রেফতার ছয়জনকে নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁওয়ের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে। সেখানে তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যৌথ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন) ডিআইজি সৈয়দ তৌফিক উদ্দীন আহমেদ নিজেই গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তারা অকপটে মাদক ব্যবসার স্বীকারোক্তি দেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিআইজি সৈয়দ তৌফিক উদ্দীন আহমেদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, শহিদুজ্জামান ওরফে নাভিদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী মাদক ব্যবসায়ী চক্র দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীতে ফেনসিডিলের ব্যবসা করে আসছিল। তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক ব্যবসার কাজে তারা যে গাড়িটি ব্যবহার করতেন সেটিও আটকের পর প্রধান কার্যালয়ে এনে তিনি নিজে পরীক্ষা করে দেখেন গাড়ির অভ্যন্তরে ফেনসিডিলের উৎকট গন্ধ। অর্থাৎ গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই ফেনসিডিল বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই চক্রের অনেকের সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন প্রভাবশালীর যোগাযোগ ছিল। তবে মাদক ব্যবসায়ী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন তাকে ছাড় দেয়া বা সমীহ করার কোনো সুযোগ নেই।

২৯ ধর্ষিতার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এপির রিপোর্টমিয়ানমার সেনারা পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ করেছে রোহিঙ্গা নারীদের


রোহিঙ্গা নারীদের মিয়ানমারের সেনারা নির্বিচারে ও পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ করত। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ধর্ষণের শিকার ২৯ রোহিঙ্গা নারীর সাক্ষাৎকারের পর এক রিপোর্টে এ কথা জানিয়েছে।

 

মিয়ানমারের সেনাদের নিপীড়নের শিকার এসব রোহিঙ্গা নারী বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। পৃথকভাবে তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এপির সাংবাদিক। এসব নারী তাদের নাম জানিয়েছেন এপির কাছে। তবে নিজের অথবা স্বজনদের প্রাণনাশের আশঙ্কা থেকে তারা কেবল নামের আদ্যাক্ষর প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে। এদের প্রত্যেকের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে মধ্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার এসব নারী রাখাইন রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা।

 

এসব নারীর প্রত্যেকের গল্পের ধরন প্রায় একই। এদের ধর্ষকদের প্রত্যেকেই সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত ছিল। এদের অনেকের পোশাকে তারকা ব্যাজ ছিল, আবার কারো পোশাকে তীরের ব্যাজ ছিল। এর মানে হচ্ছে এসব ধর্ষক মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্য।

এর আগে জাতিসঙ্ঘ অভিযোগ করেছিল, রোহিঙ্গাদের নির্মূল করতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ধর্ষণকে ‘সন্ত্রাসের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে। বার্তা সংস্থা এপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। অবশ্য গত মাসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্ত রিপোর্টে দাবি করেছিল রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি।

 

গত সেপ্টেম্বরে মিয়ানমার সরকারের আমন্ত্রণে রাখাইন সফরে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাখাইনের সীমান্ত কল্যাণমন্ত্রী ফোন টিন্ট বলেন, এই নারীরা দাবি করছেনÑ তারা ধর্ষিত হয়েছেন; কিন্তু তাদের শরীরের দিকে তাকান। আপনি কি মনে করেন, ধর্ষিত হওয়ার মতো তাদের শারীরিক আকর্ষণ আছে?

 

চিকিৎসক ও দাতব্য কর্মীরা বলছেন, ধর্ষণের শিকার নারীদের যে চিত্র তারা পেয়েছেন তাতে বিস্মিত। ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুদের খুব কমসংখ্যকই চিকিৎসার জন্য আসছেন। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা মেডিসিনস স্যানস ফ্রন্টিয়ারসের চিকিৎসকেরা আগস্টের পর থেকে কক্সবাজারে ১১৩ জনকে যৌন সহিংসতার চিকিৎসা দিয়েছেন, যাদের এক-তৃতীয়াংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। তবে সবচেয়ে কম বয়সী ধর্ষণের শিকার শিশুর বয়স ৯ বছর।

বিশ্বে সবচেয়ে বঞ্চিত ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠী হিসেবে রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করেছে জাতিসঙ্ঘ। দেশটিতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নেই, নেই কোনো মৌলিক অধিকার। বাংলাদেশের কক্সবাজারের তৃণভূমিতে জীর্ণশীর্ণ শিবিরে বর্তমানে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

‘এফ’ আদ্যাক্ষরের এক নারী জানিয়েছেন, এক মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল। তার স্বামীর বাড়িতে হামলার আগের দিন তিনি জানতে পারেন সেনারা তার বাবা-মাকে হত্যা করেছে ও ভাইয়েরা নিখোঁজ রয়েছে। ওই রাতে সাত সেনা তার স্বামীর ঘরে হামলা চালায়। তারা ওই নারীর স্বামীকে বেঁধে ফেলে এবং মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে দেয়। সেনারা যখন তাকে ধর্ষণ করছিল তার স্বামী মুখের বাঁধন আলগা করে চিৎকার করতে শুরু করলে তার বুকে গুলি করে এক সেনা। এ সময় আরেক সেনা তার স্বামীর জিহ্বা কেটে দেয়। সাত সেনা ধর্ষণের পর তাকে ঘরের বাইরে ফেলে রেখে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ওই নারী এক প্রতিবেশী মহিলার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তিন মাস পর পাঁচ সেনা ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে প্রতিবেশীর সন্তান ও তার স্বামীকে হত্যা করে। এ সময় তারা ওই প্রতিবেশী মহিলা ও তাকে ধর্ষণ করে চলে যায়।

 

ধর্ষণ ও হামলার ব্যাপারে অন্য নারীদের দেয়া তথ্যও বর্ণনার সাথে এফের বর্ণনা প্রায় একই। কয়েক জন বলেছেন, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা গ্রাম ঘিরে ফেলে, পুরুষদের থেকে নারীদের আলাদা করে। পরে অন্য কোনো স্থানে নিয়ে গণধর্ষণ করে নারীদের।

 

এই নারীরা বলছেন, তাদের চোখের সামনেই স্বামীকে পিটিয়ে ও গুলি করে এবং সন্তানদের গলা কেটে হত্যা করতে দেখেছেন। রাতের আঁধারে প্রিয়জনদের মাটিচাপা দিয়েছেন, এমনকি অনেকের লাশ সেখানে ফেলে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তারা ধর্ষণের নিদারুণ ব্যথার কথা বলছেন, রক্তপাত নিয়েই বাংলাদেশে এসেছেন দীর্ঘ পথ পায়ে মাড়িয়ে।

 

ধর্ষণ থেকে বেঁচে এসেছেন রোহিঙ্গা নারী ‘এন’। তবে তার স্বামী, দেশ ও শান্তি বলে কোনো কিছুই নেই এখন। তার করারও কিছু নেই। তবে তার আশা, তাদের দুর্দশার কথা হয়তো কেউ শুনবেন।

‘আমার আর কিছুই নেই। এখন বলা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই।’ সেনা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এফের কাছে সন্ধ্যার পর এলেও ‘কে’র কাছে এসেছে দিনের আলোতে। তিনি বলেন, এটা ছিল আগস্টের শেষের দিকের ঘটনা। উত্তর রাখাইনে নিরাপত্তাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পরের ঘটনা। নিরাপত্তাবাহিনী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জবাব দিয়েছে নৃশংস উপায়ে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, রাখাইনে শত শত রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা

রাহুল কি পারবেন কংগ্রেসের ভাগ্য বদলে দিতে?

ভারতে কংগ্রেস পার্টির নতুন নেতা হয়েছেন রাহুল গান্ধী। এমন এক সময় তিনি ১৩২ বছরের পুরোনো এই দলের কান্ডারি হলেন – যখন দলটি ভারতের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকার জন্য লড়াই করছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কংগ্রেস সভাপতির পদে হলেন রাহুল গান্ধী। সোমবার এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দায়িত্ব নেবেন ১৬ই ডিসেম্বর।

বিবিসির ভারত সংবাদদাতা স্যৌতিক বিশ্বাস লিখছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে – যেবার নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ক্ষমতায় আসে – সেবার কংগ্রেস জনগণের ভোটের মাত্র ২০ শতাংশ পেয়েছিল। শুধু তাই নয় লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মাত্র ৮ শতাংশ বা ৪৪টি আসন পেয়েছিল দলটি।

রাজ্য স্তরে ভারতে বর্তমানে মাত্র দুটি বড় রাজ্য পাঞ্জাব ও কর্ণাটকে কংগ্রেস ক্ষমতাসীন আছে। ২০১৪ সালের পর তারা ৬টি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে হেরেছে। কোন রাজ্যে একবার হারলে তারা আর সেখানে ফিরে আসতে পারছে না – এটাও দেখা গেছে, যেমন পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে।

গুজরাট আর হিমাচল প্রদেশের নির্বাচনে তাদের সম্ভাবনাকে ‘মিশ্র’ বলেই মনে করা হয়।

গত দুটি নির্বা্চনে দেখা গেছে শহর ও গ্রাম – উভয় এলাকার ভোটাররাই কংগ্রেসকে ত্যাগ করেছে। বিভিন্ন বর্ণগত সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে তাদের সমর্থন কমেছে।

তাই এখন প্রশ্ন হলো রাহুল গান্ধী কি কংগ্রেসের এই দুর্দশার অবসান ঘটাতে পারবেন?

গান্ধী পরিবারের পঞ্চম প্রজন্মের এই রাহুল গান্ধীকে অনেকেই মনে করেন একজন ‘অনিচ্ছুক’ রাজনীতিবিদ বলে। তার মা সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস নেত্রী হয়ে চেষ্টা করেও দলের মোড় ফেরাতে পারেননি।

তবে রাহুল গান্ধী যখন সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান – সেসময় কিছু একটা ঘটেছিল, তার সফর বেশ ভালোভাবে গৃহীত হয়েছিল বিভিন্ন মহলে। সামাজিক মাধ্যমেও তার প্রচারণা শেষ পর্যন্ত একটা শক্তি অর্জন করেছে। তার মন খুলে কথা বলা, রসবোধ, – এগুলো একটা ভালো ভাবমূর্তি তৈরি করেছে।

বিশেষ করে গুজরাটের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেখা গেছে যে তিনি তার কোন্দল-প্রবণ দলের নেতাদের উজ্জীবিত করতে পেরেছেন। বেকারত্ব, অসহিষ্ণুতা, অর্থনীতি, নোট বাতিল করা, নরেন্দ্র মোদি সরকারের অ-বাস্তবায়িত প্রতিশ্রুতি – এগুলোর ব্যাপারে তার স্পষ্ট কথাবার্তা ভোটাররা পছন্দ করেছেন।

এতে তার দরও কিছুটা উজ্জীবিত হয়েছে বলে মনে হয়, কিন্তু নির্বাচিত হতে হলে তাকে আরো অনেক বেশি রাজনৈতিক দক্ষতা দেখাতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক আগেই কংগ্রেস ভারতের রাজনীতির খেই হারিযে ফেলেছিল। ভারত যে এক-দল প্রধান রাজনীতি থেকে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক বহু-দলীয় রাজনীতির দিকে যাচ্ছে – কংগ্রেস তা বুঝে তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলোও তাদের ক্ষতি করেছে।

অনেকের মত হলো, রাহুল গান্ধীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে – তার দলের পরিবারতন্ত্রের ঐতিহাসিক বোঝা তিনি কিভাবে বহন করবেন। নরেন্দ্র মোদি তার সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসাকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়েছেন। কিন্তু রাহুল একবার আমেরিকায় এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ভারত এভাবেই চলে।

এক অর্থে রাহুল গান্ধী হয়তো ঠিকই বলেছেন। ভারতে আঞ্চলিক দলগুলোতেও পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্ব দেখা যায়। বিজেপিও এর থেকে মুক্ত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলেন, ভারতীয় ভোটাররা এ ক্ষেত্রে খুব একটা বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন না।

গত সাধারণ নির্বাচনের সময় দেখা গেছে, ভারতের হিন্দু ভোটারদের মাত্র ১৬ শতাংশ পেয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের ভোটারদের প্রতি ১০ জনের ৬ জন ছিল হয় মুসলিম, নয় উপজাতীয়, শিখ বা খ্রিষ্টান। বিজেপির ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ১০ জনে মাত্র তিন জন।

একজন বিশ্লেষক বলেন, রাহুল গান্ধীর চ্যালেঞ্জ হলো বিজেপির মতো হিন্দুত্ববাদের কপি না হয়েও হিন্দুদের ভোট টানার ক্ষমতা অর্জন করা। হিন্দুদের বিচ্ছিন্ন না করেও হিন্দু-জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা করা।

হয়তো তার সেরা কৌশল হবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা – যখন নরেন্দ্র মোদিও কংগ্রেস যে ভুল করেছিল ঠিক সেই ভুলগুলো করতে শুরু করবেন।

স্পষ্টতই, রাহুল গান্ধীর সামনে অনেক কঠিন সময় পড়ে রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

বদলে যাচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

নতুন নতুন প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে স্বাধীনতার সাক্ষ্য বহন করা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। দুই ধাপে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর এবার পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ করতে তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় উদ্যানে বসবে ৭ মার্চের জনসভামঞ্চের রেপ্লিকা। থাকবে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ দলিল স্বাক্ষরের নিদর্শন সেই টেবিল। জনসভার জন্য নির্মিত হবে স্থায়ী মঞ্চ। পরিকল্পনা অনুসারে, উদ্যানের একটি নির্দিষ্ট স্থানে যাতে জনসভা করা যায় সেজন্য পাকা বেদি তৈরি করা হবে। ৭ মার্চে যে জায়গায় বঙ্গবন্ধুর জনসভা হয়েছে সেখানেই এ বেদি নির্মাণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

এ ছাড়া ঐতিহাসিক এই উদ্যানের সব স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি একে দেশি-বিদেশি পর্যটকের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হবে। জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে সরকার এরই মধ্যে দুই পর্যায়ের বৃহৎ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছে। কয়েক দিন আগে স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণ শীর্ষক তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা।

২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, গ্লাস টাওয়ারের চারপাশে নতুন করে ঘাস রোপণ করে বৃত্ত গড়ে দেওয়া হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সঙ্গে একীভূত হবে শিশু পার্ক। শুধু তাই নয়, নতুন রাইড বসিয়ে পার্কটি দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হবে। পার্কের নিচে থাকবে পার্কিং। পার্ক ও উদ্যান মিলিয়ে নির্মিত হবে পাঁচটি ফুড কোর্ট

………………..

ইইউ-এর কাছে প্রত্যাখ্যাত নেতানিয়াহু : সেনা পাঠাতে প্রস্তুত মালয়েশিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিকতায় ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকেও জেরুজালেমের স্বীকৃতির আশা করছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনির সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রত্যাশার কথা জানান তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর সেই আহŸানে সাড়া দেননি মোঘেরিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই ইস্যুতে জোটের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

গত বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন নিন্দার ঝড় বইছে তখনই ব্রাসেলস সফরে গেলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। ২০ বছরেরও বেশি সময় পর এটাই প্রথম কোনও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ব্রাসেলস সফর। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরটিতে পৌঁছানোর পর আবারও ট্রাম্পের ঘোষণাকে সাধুবাদ জানান নেতানিয়াহু। তিন হাজার বছর ধরে জেরুজালেম ইহুদিদের রাজধানী দাবি করে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাম্প সত্যকেই যথাযথভাবে উপস্থাপন করেছেন’।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনির সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সব কিংবা বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ জেরুজালেমে তাদের রাজধানী সরিয়ে নেবে, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে এবং নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য আমাদের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকবে।’

নেতানিয়াহুর সেই আহŸানে সাড়া দেননি মোঘেরিনি। তিনি বলেছেন, জেরুজালেম ইস্যুতে ‘আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকে’ই স্বীকৃতি দিয়ে যাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইহুদিদের ওপর হামলারও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। মোঘেরিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি দ্বি রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে জেরুজালেমকে দুই দেশের রাজধানী করাই ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে একমাত্র বাস্তব সমাধান।’
এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, ওআইসির বৈঠকের মাধ্যমে আমরা দেখিয়ে দেবো যে, জেরুজালেমকে ইসরাইলি রাজধানী স্বীকৃতির বাস্তবিক প্রয়োগ সহজ হবে না। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামীকাল বুধবার জেরুজালেম ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ওআইসির নেতারা। ১৯৬৯ সালে গঠিত এই সংস্থাটিতে ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্র রয়েছে।
গত বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর নিন্দার ঝড় ওঠে আন্তর্জাতিক মহল থেকে। উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক জোট।

 

সেই বিষয়ে আলোচনা করতে ওআইসির জরুরি বৈঠক এরদোগান। এছাড়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন তিনি। এরদোগান জানান, আমরা সবাইকে জানিয়েছি যে, মার্কিন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি বা মানবিকতাকে সমর্থন করে না।

 

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। আগামীকাল এ ইস্যুতে তুরস্কে ওআইসি’র জরুরি সম্মেলনের কথাও উল্লেখ করেন এরদোগান। তিনি বলেন, জেরুজালেম মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পবিত্র শহর; এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ-এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে শনিবার মিসরের কায়রোতে জরুরি বৈঠকে বসে আরব লিগও। তারাও মার্কিন সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। আরব লিগের মহাসচিব আবুল গাইস বলেন, ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এবং এটি ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’
এদিকে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের রাজপথে নেমে এসেছে হাজার হাজার জনগণ। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন তারা। ফিলিস্তিন ছাড়িয়ে এই প্রতিরোধ ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতেও। মার্কিন দূতাবাসকে ঘিরে বিক্ষোভ করছেন বিশ্বের লাখ লাখ মুসলিম।
সেনা পাঠাতে প্রস্তুত মালয়েশিয়া

ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরো মুসলিম বিশ্বের মুখে চপেটাঘাত করেছেন। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় যদি প্রয়োজন হয় তাহলে মালয়েশিয়া ফিলিস্তিনে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশাম উদ্দিন হোসেইন একথা বলেছেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মালয়েশিয়ার সামরিক বাহিনী সবসময় প্রস্তুত আছে এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্ব থেকে নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে। হিশাম উদ্দিনের বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ‘বার্নামা’ এ খবর দিয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, আমরা দোয়া করছি যেন চলমান এ দ্ব›দ্ব বড় ধরনের সংঘাতের পর্যায়ে না যায়। গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর মালেশিয়ায় বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক দেশের সমস্ত মুসলমানকে মার্কিন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়ায়ও একই ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছে। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, বার্নামা, মিডল ইস্ট মনিটর।

এবার সিনেমা বৈধ সৌদিতে

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এর ভিশন ২০৩০ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির আওতায় এমন ঘোষণা এলো দেশটির তরফ থেকে।

 

যদিও স¤প্রতি গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আব্দুল আজিজ আল শেখ সিনেমার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার মতে সিনেমার অনুমোদন দেয়া হলে তা নৈতিকতাকে দূষিত করবে।

 

১৯৭০ এর দশকে সিনেমা দেখা যেতো সউদী আরবে। কিন্তু পরে ধর্মীয় নেতাদের চাপে সিনেমা নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো সেখানে।

 

সূত্র : বিবিসি

কিছু মুসলিম লম্পট আমেরিকা-ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধেছে -ইরানের সর্বোচ্চ নেতা


ইসলামের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর কিছু লম্পট ও চরিত্রহীনরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনী।
বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নাবী উপলক্ষে তেহরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিদেশি অতিথি, মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে দেওয়া এক সাক্ষাতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, বর্তমানে মহানবী (সা.)’র নির্দেশিত পথ ও মুসলিম উম্মাহ’র বিরুদ্ধে যারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তাদের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও বর্ণবাদী ইসরাইলের পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর কিছু লম্পট ও চরিত্রহীনও রয়েছে। আমেরিকা, ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং তাদের অনুসারীরাই হচ্ছে বর্তমান যুগের ফেরাউন।

তিনি বলেন, আমেরিকার শাসক গোষ্ঠী এখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করছে। তারা নতুন যুদ্ধের মাধ্যমে ইহুদিবাদী ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। দুঃখজনকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো দেশের শাসক ও নেতারা আমেরিকার সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে। যারা যুদ্ধ চায় এবং যুদ্ধই যাদের নীতি, তাদেরকে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা বলছি, জালিমদেরকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো সরকার যেসব কাজ করছে কুরআনের বক্তব্য অনুযায়ী তাদের ধ্বংস অনিবার্য।
খামেনী বলেন, ফিলিস্তিন মুক্ত হবে এবং বায়তুল মোকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার তৎপরতা থেকে তাদের অক্ষমতাই ফুটে উঠেছে। চূড়ান্তভাবে মুসলমানরাই বিজয়ী হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনী বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ঐক্যের পক্ষে এবং কোনো মুসলিম জাতির সঙ্গে ইরানের কোনো ধরণের বিরোধ নেই।

জেরুজালেমকে ইসরাইলি রাজধানী করা সহজ হবে না এরদোগান

ইইউ-এর কাছে প্রত্যাখ্যাত নেতানিয়াহু : সেনা পাঠাতে প্রস্তুত মালয়েশিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিকতায় ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকেও জেরুজালেমের স্বীকৃতির আশা করছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনির সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রত্যাশার কথা জানান তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর সেই আহŸানে সাড়া দেননি মোঘেরিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই ইস্যুতে জোটের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

গত বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন নিন্দার ঝড় বইছে তখনই ব্রাসেলস সফরে গেলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। ২০ বছরেরও বেশি সময় পর এটাই প্রথম কোনও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ব্রাসেলস সফর। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরটিতে পৌঁছানোর পর আবারও ট্রাম্পের ঘোষণাকে সাধুবাদ জানান নেতানিয়াহু। তিন হাজার বছর ধরে জেরুজালেম ইহুদিদের রাজধানী দাবি করে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাম্প সত্যকেই যথাযথভাবে উপস্থাপন করেছেন’।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনির সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সব কিংবা বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ জেরুজালেমে তাদের রাজধানী সরিয়ে নেবে, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে এবং নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য আমাদের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকবে।’

নেতানিয়াহুর সেই আহŸানে সাড়া দেননি মোঘেরিনি। তিনি বলেছেন, জেরুজালেম ইস্যুতে ‘আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকে’ই স্বীকৃতি দিয়ে যাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইহুদিদের ওপর হামলারও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। মোঘেরিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি দ্বি রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে জেরুজালেমকে দুই দেশের রাজধানী করাই ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে একমাত্র বাস্তব সমাধান।’
এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, ওআইসির বৈঠকের মাধ্যমে আমরা দেখিয়ে দেবো যে, জেরুজালেমকে ইসরাইলি রাজধানী স্বীকৃতির বাস্তবিক প্রয়োগ সহজ হবে না। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামীকাল বুধবার জেরুজালেম ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ওআইসির নেতারা। ১৯৬৯ সালে গঠিত এই সংস্থাটিতে ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্র রয়েছে।
গত বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর নিন্দার ঝড় ওঠে আন্তর্জাতিক মহল থেকে। উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক জোট।

 

সেই বিষয়ে আলোচনা করতে ওআইসির জরুরি বৈঠক এরদোগান। এছাড়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন তিনি। এরদোগান জানান, আমরা সবাইকে জানিয়েছি যে, মার্কিন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি বা মানবিকতাকে সমর্থন করে না।

 

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। আগামীকাল এ ইস্যুতে তুরস্কে ওআইসি’র জরুরি সম্মেলনের কথাও উল্লেখ করেন এরদোগান। তিনি বলেন, জেরুজালেম মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পবিত্র শহর; এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ-এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে শনিবার মিসরের কায়রোতে জরুরি বৈঠকে বসে আরব লিগও। তারাও মার্কিন সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। আরব লিগের মহাসচিব আবুল গাইস বলেন, ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এবং এটি ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’
এদিকে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের রাজপথে নেমে এসেছে হাজার হাজার জনগণ। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন তারা। ফিলিস্তিন ছাড়িয়ে এই প্রতিরোধ ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতেও। মার্কিন দূতাবাসকে ঘিরে বিক্ষোভ করছেন বিশ্বের লাখ লাখ মুসলিম।
সেনা পাঠাতে প্রস্তুত মালয়েশিয়া

ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরো মুসলিম বিশ্বের মুখে চপেটাঘাত করেছেন। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় যদি প্রয়োজন হয় তাহলে মালয়েশিয়া ফিলিস্তিনে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশাম উদ্দিন হোসেইন একথা বলেছেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মালয়েশিয়ার সামরিক বাহিনী সবসময় প্রস্তুত আছে এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্ব থেকে নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে। হিশাম উদ্দিনের বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ‘বার্নামা’ এ খবর দিয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, আমরা দোয়া করছি যেন চলমান এ দ্ব›দ্ব বড় ধরনের সংঘাতের পর্যায়ে না যায়। গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর মালেশিয়ায় বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক দেশের সমস্ত মুসলমানকে মার্কিন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়ায়ও একই ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছে। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, বার্নামা, মিডল ইস্ট মনিটর।