হাজিরা দিতে মঙ্গলবার আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার হাজিরা দিতে মঙ্গলবার বিশেষ আদালতে যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সোমবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এ মামলার হাজিরা দিতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশেষ আদালতে খালেদা জিয়া উপস্থিত হবেন। এদিন রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

গত ২৫ জানুয়ারি বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান যুক্তি উপস্থাপনের জন্য এদিন ধার্য করেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দ্বিতীয় মামলাটিও করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করা হয়।

এদিকে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

খালেদা জিয়ার কিছু হলে যেভাবে চলবে বিএনপি
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণা হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। এই নিয়ে চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তাপ। সরকার পক্ষ ও বিএনপির মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। তবে খালেদা জিয়ার সাজা হবে কিনা তা নিয়ে চলছে নান আলোচনা, হিসাব-নিকাশ। রায়ে যদি খালেদা জিয়া জেলে চলে যেতে হয় তাহলে সেই সময় বিএনপি কীভাবে চলবে, সেই প্রস্তুতিও নিয়েছে জোট।

বিএনপির নেতারা বলছে, খালেদা জিয়াকে জেলে দেয়া হলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে যাবে বিএনপি। এছাড়া খালেদা জিয়া ছাড়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচনে যাবেন না তারা।

খন্দকার মেশাররফ বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অসত্য রায় দেয়া হলে মু্ক্তির আন্দোলন নয়, সরাসরি সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন এই নেতা।

এছাড়াও বিএনপির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া জেলে চলে গেলেও দল পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না। যদিও বিএনপির এই নেতারা মনে করেন, যে মামলায় খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছে- তার কোনো ভিত্তি নেই। তবু রাজনৈতিক কারণে খালেদা জিয়াকে জেলে নেওয়া হলে দল কীভাবে পরিচালনা হবে- সে ব্যাপারে একটা ধারণা দলের নেতাদের রয়েছে। তারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তারেক রহামানের পরামর্শে চলবে দল।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলছেন, খালেদা জিয়া যখন চিকিৎসার জন্য তিন মাস লন্ডনে ছিলেন তখন আমরা বিএনপি পরিচালনা করেছি না? সবচেয়ে বড় কথা হলো- আমাদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডনে আছেন, তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করার সুযোগ থাকবে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করে যৌথ নেতৃত্বে আমরা দল পরিচালনা করব।

এদিকে রায়ের তারিখ ঘোষণার দিনেই বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, খালেদা জিয়ার সাজা হলে দেশে আগুন জ্বলবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, এই অবৈধ সরকার পূর্বেই রায় লিখে রেখেছেন। তবে এই বিচারের প্রহসনের কোনও প্রয়োজন ছিল না। দেশে যে আইনের শাসন নেই-ন্যায়বিচার সুদুর পরাহত সেটাই প্রমাণিত হলো। বিচার হবে প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন তাই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলছেন, বিএনপি নেতা-কর্মীদের জেল জুলুমের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমি সরকারকে বলে দিতে চাই, কিছু মানুষ আছে যাদেরকে অল্প কিছুদিন ভয় দেখিয়ে চুপ রাখা যায়। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। খালেদা জিয়ার কিছু হলে জনগণ তার জবাব দেবে’ বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে সরকার পক্ষের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে বিশৃংখলা হলে কঠোরভাবে দমন করা হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মামলার রায়ের পর সন্ত্রাসী কার্যক্রম করলে প্রতিরোধ করবে জনগণ।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বিএনপি। তদের নেতাকর্মীদের বক্তব্যে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আদালতের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোন হস্তক্ষেপ করেনি সরকার। আর কখনো করবেও না। যদি এই রায় নিয়ে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়, দেশে সন্ত্রাসের কার্যকলাপ করা হয় তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা তা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।

রায় ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গত শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রায়ে যদি খালেদা জিয়ার সাজা হয়, সে ক্ষেত্রে দলের রাজনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়া কী হবে, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রায়ের পর বিএনপির প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত, সেটিও আলোচনায় এসেছে। এ ছাড়া রায়ের পর বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতিক্রিয়ার কারণে সরকার তাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন বাড়িয়ে দেবে কি না, সেটি আলোচনা করেছেন বিএনপি নেতারা।

বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা সরকারের ষড়যন্ত্র বলে মনে করে স্থায়ী কমিটি। এ রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোটা জাতি আজ ক্ষুব্ধ।

আমরা মনে করি, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য এবং সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনকে নষ্ট করার জন্য এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র। স্থায়ী কমিটি এর নিন্দা জানাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিএনপির নেতারা মনে করছেন, খালেদা জিয়াকে হয়রানি করার জন্য ‘জাল নথি’ ও ‘ভুয়া তথ্য’ দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা সাজানো হয়েছে। এই মামলায় সাক্ষী ও বিচারপ্রক্রিয়ায় ‘স্বচ্ছতা’ নিয়েও তাঁরা আশ্বস্ত নন।

যে কারণে তাঁরা মনে করেন, খালেদা জিয়াকে সম্মানজনকভাবে এই মামলায় খালাস দেওয়া হবে। এ ছাড়া কোনো কারণে যদি খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে বিএনপি এর প্রতিবাদ করবে। সরকার পতনের আন্দোলনই হবে বিএনপির সেই প্রতিবাদ।

‘খালেদার রায়ের দিন যা করবে আ’লীগ’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার দিন রাজপথ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র আরও বলেন, খালেদা জিয়ার রায় কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে, রায়ের দিন রাজপথ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ।

উল্লেখ্য, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করবে ঢাকার পঞ্চম জজ আদালত।

দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের এ মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

বিডি২৪লাইভ/এএইচআর

‘৮ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের রায়’
বন্ধ হয়ে যাওয়া দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, এ সরকার ভিন্নমত, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। সেই প্রক্রিয়াতে তারা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন ও জালিয়াতিমূলক মামলায় আগামি ৮ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের রায় দিতে যাচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হলো বিএনপিকে আন্দোলনের মাঠ থেকে বাইরে রাখা।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার একটি আদালতে মানহানির মামলায় জামিন লাভের পর এসব কথা বলেন তিনি।

বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেখানে প্রধান বিচারপতিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়, সেখানে আদালতের কোনো মূল্য আছে এ দেশে? না-কি আইনের শাসন আছে? না-কি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে? তো এ যখন বিচার বিভাগের অবস্থা, সেখানে আপনি বিচার বিভাগে ন্যায় বিচার আশা করতে পারেন না, যদি না আপনি অতি আশাবাদী হন।

খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মামলা রাজনৈতিক মামলা, কাজেই এ মামলাটি বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা উচিত ছিল, এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে বিএনপি। দেশের জনগণ আশা করে ৮ তারিখের পরে অন্তত বিএনপি এটাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে।

দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের বিষয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমান দখলদার সরকার দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো লুটপাট করে সমস্ত টাকা-পয়সা বিদেশে নিয়ে গেছে। আজ আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরৎ পাচ্ছে না, অথচ এসব বিষয়ে বিএনপি আন্দোলনে নামতে পারেনি এখন পর্যন্ত। কাজেই সময় এসেছে বিএনপি তাদের গত কয়েক বছরের ব্যর্থতা বিবেচনা করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে এ দখলদার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে ৩৬টি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে। আইনিভাবে তিনি এসব মামলার মোকাবেলা করবেন বলে জানান।

মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস সা’দত জানান, কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেমায়েত উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে মাহমুদুর রহমান মানহানির মামলায় জামিন লাভ করেন। গত ৭ জানুয়ারি তিনি এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন লাভ করেছিলেন।

এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন, বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল খান, আমিরুজ্জামান আমির, অ্যাড. কামরুল হায়াৎ খান, অ্যাড. আলী আক্কাস, ভিপি জসিম উদ্দিনসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর পরিবার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এক হাজার কোটি টাকার মানহানির এ মামলাটি দায়ের করেন কুমিল্লা শহর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউল হাসান চৌধুরী সোহাগ।

বিডি২৪লাইভ/এমআই

ক্ষমতাসীনরা আদালতকে প্রভাবিত করে খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে চান-রিজভী

সরকার মাইনাস ওয়ান ফর্মুলার দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, আমরা দেখি ৮ ফেব্রুয়ারির প্রতিফলন হয় কিনা। এমন কিছু হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে। এবং তা বাস্তবায়ন হতে দেবে না।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীনরা আদালতকে প্রভাবিত করে খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে চান। তা নাহলে আদালতে কি হবে না হবে তারা কীভাবে জানেন। তারা আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, গতকাল (২৮ জানুয়ারি) নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, খালেদা জিয়ার সাজা নিশ্চিত। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন জেলে গিয়েই খালেদা জিয়াকে আপিল করতে হবে। আর সরকারদলীয় মন্ত্রীরা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে একদিনের জন্য হলেও জেলে যেতে হবে। এতেই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, আদালতের রায় কি হবে তারা তা জানেন।

হাজার হাজার মামলা দিয়ে তারা বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে তড়িঘড়ি করে সাজা দিয়ে নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সিটি কনভেনশন হলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৩ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) এ বৈঠক সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দলের গঠনতন্ত্রের বিধান বলে খালেদা জিয়ার সম্মতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সভা ডেকেছেন। ইতোমধ্যে নির্বাহী কমিটির সবাইকে বৈঠকের নোটিশ দেয়া হয়েছে।

কাউন্সিলের প্রায় ২ বছর পর হঠাৎ করে কেন বৈঠক ডাকা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আমরা কী স্বাভাবিকভাবে মিছিল মিটিং করতে পারি?

একটা কর্মসূচি পালন করতে গেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নেতাকর্মীদেরকে বিভিন্ন দিক থেকে ধরে নিয়ে যায়। এগুলো করতে হলে তো স্বাভাবিক পরিবেশ প্রয়োজন হয়!’

সংবাদ সম্মেলনে পস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূইয়া ও যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন নবী খান সোহেল প্রমুখ।

‘আপনাদের কাছে কোনটা বড়? বেগম জিয়া নাকি বিএনপি?

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনাদের কাছে কোনটা বড়? বেগম জিয়া নাকি বিএনপি? কোনটা আপনাদের কাছে মুখ্য। সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাদের।’

বেগম খালেদা জিয়াকে রক্ষা করতে গিয়ে বিএনপিই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় কিনা সেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের এই প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে শাহ এস এম কিবরিয়ার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায় প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তারা (বিএনপির নেতারা) মাঠ গরম করছে। টেলিভিশনের পর্দা গরম করছে। টকশোর পর্দা ফাটিয়ে দিচ্ছে। আদালতকে হুমকি দিচ্ছে। বেগম জিয়া শাস্তি হবে কিনা এটা আদালত জানে। তারা বলে শাস্তি হলে আগুন জ্বলবে। তাদের এসব বক্তব্যের জন্য আদালত ব্যবস্থা নিবেন আশা করি।’

আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন দাবি করে সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা পর্যন্ত আদালতের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। কেউ জেলও খেটেছে। কিন্তু বেগম জিয়া আদালতকে হেনস্তা করেছেন। দেশে থেকে বার বার সময় নিয়েছেন। এভাবে বার বার আদালতের কাছে সময় নেয়ার রেকর্ড গড়েছেন।’

বিএনপির নেতাদের ডাকে কোন কর্মী মাঠে আসবেন না দাবি করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ‘যারা আন্দোলনের ডাক দিয়ে এসি রুমে বসে হিন্দি সিনেমা দেখে তাদের ডাকে কোন কর্মী মাঠে আসবে না। বিএনপির নেতাদের এসব তর্জন-গর্জন বর্ষাকালের ব্যাঙের ডাকের মত। বিএনপির জন্য এখন রাজনীতিতে বর্ষা কাল।’

বিএনপি যদি খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে দেশে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাহলে জনগণ প্রতিহত করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন হাছান মাহমুদ।

সংগঠনের সভাপতি চিত্রনায়ক ফারুকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য চিত্রনায়িকা সাহারা বেগম কবরী, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার প্রমুখ।

এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রথমে আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে। এর পরই তিনি আপিলের আবেদন করার সুযোগ পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

রবিবার দুপুরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা সামনে রেখে এসব কথা বলেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সাধারণ একজন অপরাধী যেভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন, খালেদা জিয়াকেও সেভাবেই যেতে হবে। আত্মসমর্পণ করতে হবে, জেলে যেতে হবে; এর পর আপিলের আবেদন করবেন।

রায়ের দিন ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। এরমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও যুক্ত হলেন, তার এই মন্তব্য হয় তো আরো উত্তাপ ছড়াবে।

খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলে গত শুক্রবার সতর্ক করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলায় ‘নেতিবাচক’ কোনো রায় হলে তার পরিণতি ‘ভয়াবহ’ হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি ভুয়া, জাল নথির ওপরে সাজানো মামলা। বিএনপির চেয়ারপারসনকে মানসিকভাবে হয়রানি করার জন্য এ মামলা করা হয়েছে। দেশে আইনের শাসন থাকলে এমন মামলা আদালতে টিকতো না। তারপরও আমরা রাজনৈতিক ও আইনীভাবে মামলাটি মোকাবেলা করবো।

‘রাস্তায় না নামলে বাড়িতে গিয়ে চুড়ি পরিয়ে দেব’

আন্দোলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা রাজপথে না নামলে বাড়িতে গিয়ে হাতে চুড়ি পরিয়ে দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল।

সোমবার নয়া পল্টনে মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির এক সভায় এই হুমকি দেন সোহেল। এসময় দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ কেলেঙ্কারির মামলা রায় ঘোষণা করা হবে।

ওই দিন মহানগর নেতা-কর্মীদের সবাইকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়ে সোহেল বলেন, আপনারা এবার সকলে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিন, দেখা হবে রাজপথে। কত শক্তি আছে তাদের, দেখবো আমরা।’

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল বলেন, ‘সম্মান রেখে আমরা বলতে চাই, কেন্দ্রীয় নেতারা যারা সেই দিন রাস্তায় নামবেন না, পরের দিন তাদের বাসায় গিয়ে আমরা চুড়ি পরিয়ে দেব। আমরা এবার দলের সিনিয়র নেতাদের রাস্তায় দেখতে চাই।’

সোহেল বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি একটি সাজানো মামলার রায় হচ্ছে। যদি সঠিক রায় হয় তাহলে নেত্রী খালাস পাবেন। যদি ভিন্ন কিছু হয় তা এদেশের জনগণ মেনে নেবে না।

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালেচনা করে সোহেল বলেন, ‘বিএনপির যদি আন্দোলনের সক্ষমতা না থাকে তাহলে বিএনপিকে ঠেকানোর জন্য হাজার হাজার পুলিশ বাহিনী কেন নিয়োগ করা হয়? ওবায়দুল কাদের, আপনার নিজের দলকে সামলান। আওয়ামী লীগে এখন গুটিকয়েক সন্ত্রাসী ছাড়া কোনো নেতাকর্মী নেই। বিএনপির চিন্তা বিএনপি করবে, আপনার এতো মাথাব্যথা কেন?’

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্যে সরকারের ষড়যন্ত্র রুখতে ‘জনগণের সুনামি’ সৃষ্টি করতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ফখরুল।

তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বুড়ো হয়ে গেছি, বয়স হয়ে গেছে। সারাটা জীবন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে আছি, কখনো সরে যাইনি। আপনারা যারা তরুণ আছেন সময় আপনাদের। পরিবর্তন আপনাদেরই আনতে হবে। পরিবর্তন আনতে হলে আপনাদের শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

যে কারণে ধারা টি বাদ দিয়েছে বিএনপি

দল ভাঙার আশঙ্কায় গঠনতন্ত্রের একটি ধারা বাদ দিয়েছে বিএনপি। সংশোধিত গঠনতন্ত্র রোববার নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে দলটি। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই সংশোধনীর কথা নিশ্চিত করেন।

গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার (সিইসি) কাছে সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দেয়। তবে এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান কিছু বলতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, দল ভাঙার চেষ্টায় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে এই আশঙ্কায় গঠনতন্ত্রের একটি ধারা বাদ দেয়া হয়েছে। সংশোধিত গঠনতন্ত্র রোববার নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারার ‘ঘ’তে বলা ছিল, ‘সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি’ বিএনপির কোনো পর্যায়ের কমিটির সদস্য কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীপদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, তাঁদের কাছে তথ্য আছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে ভাঙতে সরকারের একটি মহল থেকে চেষ্টা-তৎপরতা চালানো হবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের পর এই তৎপরতা গতি পেতে পারে।

এই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হলে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ ব্যক্তি দলের সদস্যপদের অযোগ্য হবেন বলে যে কথাটি গঠনতন্ত্রে আছে, তা সামনে এনে ওই মহল বিএনপিতে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য দলের একটা অংশকে ব্যবহার করতে পারে। এই আশঙ্কার কারণে গঠনতন্ত্রের ৭ ধারাটি তুলে দেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে গঠনতন্ত্রে কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব পাস হয়। আগের গঠনতন্ত্রের ৭ (ঘ) ধারাটি ছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু এত দিন দলটি নির্বাচন কমিশনে গঠনতন্ত্র জমা দেয়নি। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে চিঠিও দেয়। ১ বছর ১০ মাস পর ওই ধারা বাদ দিয়ে গতকাল গঠনতন্ত্র জমা দিল দলটি।

বিএনপির গঠনতন্ত্রে ৭ নম্বর ধারায় ‘কমিটির সদস্যপদের অযোগ্যতা’ শিরোনামে বলা আছে, ‘নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যেকোনো পর্যায়ের যেকোনো নির্বাহী কমিটির সদস্যপদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীপদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’ তাঁরা হলেন: (ক) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৮-এর বলে দণ্ডিত ব্যক্তি। (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি, (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।

অবশ্য গঠনতন্ত্রের ৩-এ ‘সদস্য পদ লাভের যোগ্যতা’ ও ‘সদস্য পদ লাভের অযোগ্যতা’ ধারাটি বলবৎ আছে। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশের আইনানুগ নাগরিক নন, এমন কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য হতে পারবেন না। বাংলাদেশের স্বাধীনতায়, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরোধী, গোপন সশস্ত্র রাজনীতিতে বিশ্বাসী, সক্রিয়ভাবে-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সমাজবিরোধী ও গণবিরোধী কোনো ব্যক্তিকে সদস্যপদ দেওয়া হবে না।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, ৩ নম্বর ধারার নির্দেশনাই দলের যেকোনো কমিটির সদস্য ও সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীপদের অযোগ্যতা হিসেবে ধরে নেওয়া হবে।

ধারাবাহিক বৈঠক, আন্দোলনের বার্তা

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই মামলায় দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার সাজা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিতে সারা দেশে নেতা-কর্মীদের বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের জন্য ধারাবাহিক বৈঠক করছে দলটি।

শনিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এরপর গতকাল সকালে গুলশানের কার্যালয়ে বিএনপির সঙ্গে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের এবং রাতে ২০-দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে দলটি।

আজ সোমবার রাতে আবার বৈঠকে বসবে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি। ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে।

জানা গেছে, ২০ দলের বৈঠকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আন্দোলনের জন্য শরিকদের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। এর বাইরে চারদলীয় জোটের এক সময়কার নেতা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে (একাংশ) ২০-দলীয় জোটে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কথা হয়।

শনিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভার প্রস্তুতিও চলছে। ৩ ফেব্রুয়ারি এই সভা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সামনে নির্বাচন। এই লক্ষ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসনের মামলার রায় আছে। সব মিলিয়ে দল গোছানোর প্রস্তুতির বিষয় আছে। সে জন্যই এসব বৈঠক।

কিসের এত ভয় খালেদা জিয়ার?

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, তিনি আইন-আদালতকে ভয় করেন, নির্বাচনকে ভয় পান, জনগণ ও আওয়ামী লীগকে ভয় পান।

এত ভয় পেলে রাজনীতি করা যায় না। কেউ অন্যায়-অপরাধ করলে আইনে সাজা হবে। অপরাধ প্রমাণিত না হলে খালাস পাবেন। এটাই আইনের বিধান। খালেদা জিয়ার এত ভয় কিসের?

আজ সোমবার বিকেলে কাজীপুরের সোনামুখী বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন শেষে আয়োজিত ছাত্র-জনতার এক সমাবেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোনো চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসা যাবে না। দেশের উন্নয়ন করবে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখবে, জনগণ তা মানবে না, মানতে পারেও না।

কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সিদ্দিক হোসেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইশতিয়াক আহসান, কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য রতন কুমার কর্মকার ও কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক।

মোহাম্মদ নাসিম নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গ টেনে সমাবেশে আরও বলেন, এ দেশের জনগণ উন্নয়নের পক্ষে। জনগণ জ্বালাও-পোড়াও এবং সন্ত্রাসের পক্ষ নিতে পারে না।

এর আগে মন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী এলাকার মাথাইলচাপড়ে একটি অটো-অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের উদ্বোধন করেন এবং হাটশিরায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন। পরে তিনি সোনামুখীতে নির্মাণাধীন স্টেডিয়াম, চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নে ১০ শয্যার আমেনা মনসুর মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র এবং চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।

ঝুলে গেলো বিএনপি জোটে মুফতি ইজহারের যোগদান

শরিকদের বাধায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে নেজামে ইসলাম পার্টির যোগ দেওয়ার বিষয়টি ঝুলে গেছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে বাধা দেন জোটের অন্যান্য শরিকরা।

তাই মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর জোটে যোগদানের বিষয়টি শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতার বাধার মুখে পড়ে। পরে আর এ নিয়ে আলোচনা এগোয়নি।

এদিকে রবিবার রাতে বিএনপি-জোটে যোগ দিতে গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছে মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীকে। রাতে সাড় ১০টার দিকে বেরিয়ে আসেন তিনি। বাংলা ট্রিবিউনকে মুফতি ইজহার বলেন, ‘আমাকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে পরে আলোচনা হবে।’

বিএনপি মহাসচিব জোটের বৈঠক শুরু করার পরই শরিকদের সমালোচনা চলতে থাকে। পরে বৈঠকের মাঝপথে বেরিয়ে এসে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শিমুল বিশ্বাসের কক্ষে অপেক্ষমাণ মুফতি ইজহারকে ‘পরে আলোচনা হবে’ বলে বিদায় জানান মির্জা ফখরুল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে নেজামে ইসলাম পার্টির ২০ জোটে যোগদানের বিরোধিতা করেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক। তিনি মুফতি ইজহারের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক ও তার মানসিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল এজেন্ডা হিসেবে নেজামে ইসলাম পার্টির জোটে যোগদানের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সঙ্গে সঙ্গেই এর বিরোধিতা করেন ইসহাক।

তিনি খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বৈঠকে বলেন, ‘ম্যাডাম জোটে কাকে নেবেন বা নেবেন না এটা আপনার ব্যাপার। তবে নেজামে ইসলাম পার্টির অনেক সমস্যা রয়েছে।’ এ সময় মাওলানা ইসহাকের সঙ্গে সঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রতিনিধি মাওলানা মহিউদ্দীন ইকরামও মুফতি ইজহারের জোটে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবে বিরোধিতা দেখান।

জানা যায়, শুরুতে মুফতি ইজহারের বিষয়ে বিরোধিতায় সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনারাই তো ম্যাডামকে বলেছেন যে, তাকে নিতে হবে।’

এক্ষেত্রে লক্ষণীয়— গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই নেজামে ইসলাম পার্টিকে জোটে আনতে উদ্যোগ নেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম ও জোটের আরেক শরিক মাওলানা অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব। জানা গেছে, মাওলানা ইসহাকের তীব্র বাধার পর তারা দু’জনই মুফতি ইজহারের বিষয়ে কোনও বক্তব্য দেননি।

এ কারণে অন্য শরিকদের বক্তব্যের আগেই বিষয়টি চাপা পড়ে। শরিকদের একজন নেতার ভাষ্য, ‘মুফতি ইজহারের বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

বৈঠক থেকে বেরিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব। তিনি বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘মাওলানা ইসহাক তো মন্ত্রী ছিলেন, তিনি কোন দলের মন্ত্রী ছিলেন পাকিস্তান আমলে?’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাওলানা ইসহাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে মহাসচিব ব্রিফ করবেন। এরপর আপনারা জানতে পারবেন।’

এর আগে শনিবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে নতুন শরিক দল হিসেবে যোগ দিতে জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী। ওই বৈঠকের বিষয়ে রবিবার রাতে একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে নেজামে ইসলাম পার্টি। দলটির প্রচার সচিব দ্বীনে আলম হারুনী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈঠকের বিষয়ে বলা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে নেজামে ইসলাম পার্টির বৈঠকনেজামে ইসলাম পার্টি একটি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। এর একটি অংশ মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর নেতৃত্বে আছে ইসলামী ঐক্যজোটে। তিনি (নেজামী) দলটির ওই অংশের চেয়ারম্যান।

মুফতি ইজহার চার দলীয় জোটের সময় ইসলামী ঐক্যজোটের অন্যতম নেতা ছিলেন। পরে ইসলামী ঐক্যজোট ভেঙে গেলে তিনিও ঐক্যজোটের একটি অংশের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজেকে দাবি করতেন।

রবিবার রাতে গুলশানে অনুষ্ঠিত বিএনপি জোটের বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল হালিম, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গাণি, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকীব, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান।

এছাড়াও ছিলেন খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির খন্দকার গোলাম মর্তুজা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, পিপলস লিগের গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান, হামদুল্লাহ আল মেহেদি

জমিয়তে উলামা ইসলামের মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাইফুদ্দিন মনি। জোটের আগের বৈঠকটি হয় গত ৮ জানুয়ারি।

বিস্তারিত আসছে…