‘বিএনপি ১ ঘন্টার নোটিশে আ’লীগের চাইতেও বেশী লোক সমাগম ঘটাতে সক্ষম’

বিএনপি ১ ঘন্টার নোটিশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আ’লীগের চাইতেও বেশী লোক সমাগম ঘটাতে সক্ষম। সেই গোয়েন্দা তথ্যের কারনেই বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছেনা। তবে এরফলে বিএনপির জনসমর্থন কমবেনা বরং আরো বাড়বে।

কারন কোন দল বা মানুষ বিনা দোষে অত্যাচারীত হলে সেই অত্যাচারিত দল বা মানুষের প্রতি জনসাধারনের সহানুভূতি আরো বেড়ে যায় এতে কোন সন্দেহ নেই।

আমি মনেকরি বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার নিজের জালে নিজেই আটকা পড়েছে কারন বর্তমান পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, বিএনপিকে সভাসমাবেশ করতে দিলেও স্বৈরাচারের ক্ষতি নাদিলেও স্বৈরাচারের ক্ষতি।

যেমন:- বিএনপিকে সভাসমাবেশ করতে দিলে তারা দেশে লাভবান হবে আর করতে নাদিলে আন্তর্জাতিকভাবে লাভবান হবে। সুতরাং নো টেনশন ডু ফূর্তি।

Shakil Ridoy নামক একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী এমন মন্তব্য করেছেন ।

নেতা ‘বিএনপির’, মার্কা নৌকা

স্থানীয় সরকারের যেসব আসনে ভোট হচ্ছে তার মধ্যে নেত্রকোণায় মোহনগঞ্জের তেতুলিয়া ইউনিয়নের ভোটটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাকে সেখানে নৌকা প্রতীক দিয়ে প্রার্থী করেছে আওয়ামী লীগ।

রাতারাতি ভোল পাল্টে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালামের নৌকায় সওয়ার হওয়াটা মেনে নিতে পারছেন না ক্ষমতাসীন দলেরই স্থানীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের একটি বড় অংশ।

এই নির্বাচনে বিএনপি কোনো প্রার্থী না দেয়ায় আবুল কালাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া মার্কা নিয়ে লড়াই করা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সামিনা সুলতানা। আর দলের একটি বড় অংশের সমর্থন তার দিকেই।

সামিনার স্বামী রফিকুল ইসলাম মুরাদ দুই বছর আগে নৌকা প্রতীক নিয়ে এই আসনটিতে নৌকা প্রতীকের বর্তমান প্রার্থী আবুল কালামকে হারিয়েছিলেন।

তখন তিনি লড়েছিলেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুরাদের মৃত্যুর পরই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি ফাঁকা হয়।

অভিযোগ উঠেছে এবার নৌকা প্রতীক পেয়ে বেপোরোয়া হয়ে আওয়ামী লীগেরই তৃণমূলের কর্মী, সমর্থকদের ওপর হামলা, মারধর করেছেন আবুল কালাম।এই ঘটনায় কালামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান ফরহাদ জানান, গত ১৩ জানুয়ারি মুরাদ মারা গেলে পদটি শূন্য হয়।

ইউনিয়নটিতে ছয় হাজার ৯৯৭ জন পুরুষ ও ছয় হাজার ৭৯৭ জন নারী ভোটার রয়েছেন। সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা নাগাদ নয়টি কেন্দ্রে ভোট নিতে নয়জন প্রিজাইডিং ও ৩৯ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনী।

এই নির্বাচনকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ছিলেন সাত জন প্রার্থী হন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সামিনা সুলতানা, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি কামররুল হাসান চৌধুরী, মোহনগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি ও পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের মিলন, উপজেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক শওকত হোসেন, সাবেক ছাত্রলীগ (কলেজ সংসদ) নেতা আবুল কালাম, মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান কামরুল হাসান সায়েম, ঢাকা মহানগর উত্তর ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রিকু খান।

নিজ দলের এই প্রার্থীদের বাদ দিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালামকে দেয়া হয় নৌকা প্রতীক। পরদিন মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে কালামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

ভোল পাল্টানো নিয়ে বক্তব্য নেই আবুল কালামের

দলবদল, আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম কিছু বলতে অস্বীকার করেন। বলেন, ‘ভাই আমাকে ছেড়ে দেন, এখন এই বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাই না।’

কালামের আওয়ামী লীগ বিরোধী যত কর্মকাণ্ড

কালাম ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে মুরাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান।

ভোটের সপ্তাহ খানেক আগে ১৬ এপ্রিল তার লোকজন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুরাদের ওপর বড় পাইকুড়া বাজারে প্রচারণা চলাকালে অতর্কিত হামলা হয়। সেদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর, মোটর সাইকেলে আগুন, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে।

পরে কালাম ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মোহনগঞ্জ থানায় দ্রুতবিচার আইনে মামলা করেন মুরাদ। এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

কালাম বিএনপির সমর্থন নিয়ে পরপর দুইবার ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন।

মনোনয়ন বঞ্চিতরা যা বলছেন

নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত মোহনগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি কামরুল হাসান চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমিসহ বাকি ছয়জন মনোনয়ন প্রত্যাশী সকলেই স্বাধীনতার পরে শক্তি ও আওয়ামী পরিবারের লোক।

উপজেলা আওয়মী লীগের সভাপতি লতিফুর রহমান রতন সাতজনকেই বলেছেন, তোমাদের সবার কাগজপত্র রেখে দিলাম এগুলো এমপি চাচির (রেবেকা মমিন) কাছে পাঠাব।’

‘তিনি তো আামদের গার্ডিয়ান। তিনি এই সাতজনের মধ্যে থেকেই মনোনয়ন দেবেন। কিন্তু সভাপতি তার কথা রাখলেন না। তিনি যদি দলের ভালো চাইতেন তবে এই হীন কাজ করতে পারতেন না।’

রিকু খান বলেন, ‘গত ২১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে পাঁচ হাজার টাকা মূল্যে আমরা সাতজন প্রার্থী দলীয় ফরম কিনে তৃণমূলে অংশ নেই। কিন্তু আমাদের কাউকে দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপির সহসভাপতিকে নৌকার মনোনয়ন দেয়ায় সকলেই হতবাক হয়েছি।’

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সামিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমার স্বামীর মৃত্যুর কিছু দিন পর উপজেলা সভাপতি লতিফুর রহমান রতনের কাছে গিয়েছিলাম।

তিনি আমাকে বললেন তোমার স্বামী মারা গেছেন তুমি বাড়িতে যাও। তোমার চিন্তা আমার ও এমপি চাচির। তার কিছুদিন পর আমি ঢাকায় এমপি ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করে মনোনয়ন চেয়ে অনেক অনুনয়-বিনয় করি।’

‘আমার স্বামী দলের জন্য কিনা করেছেন। আর মাত্র ৪০ দিনেই সবকিছু ভুলে গেছেন সবাই!’

সামিয়ার অভিযোগ, আবুল কালাম বিভিন্ন গ্রামে তার সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছেন। হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে গিয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করছেন। অনেক ভোটারদের মারধর করছেন। পেশীশক্তি ব্যবহার করছেন।

উপজেলা বিএনপির বক্তব্য

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকম শফিকুল হক বলেন, ‘কালাম আমাদের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। তাই তাকে সহসভাপতির পদ ও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি আমাদের কাছে আগে কখনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি।’

নাখোশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী লিয়নের বাড়ি নির্বাচনী এলাকায়। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন ও আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ধারণা ছিল, যেহেতু মুরাদ একজন জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন তাই তার স্ত্রী সামিনা সুলতানাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন নেতা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে মতলববাজি করে এই অপকর্ম করেছেন। দলের ক্ষতি করেছেন তারা।’

মনোনয়নের পক্ষে দুই আ.লীগ নেতার বক্তব্য

মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ ইকবাল বলেন, ‘এলাকায় সৎ ও জনপ্রিয় হচ্ছেন আবুল কালাম। তাকে দিয়ে এলাকার উন্নয়ন হবে। এসব দিক ভেবে লতিফুর রহমান রতন, সাংসদ রেবেকা মমিন ও আমি আবুল কালামকে মনোনয়ন দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।’

এলাকায় তুমুল সমালোচনার মাঝে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লতিফুর রহমান রতন ও একই ধরনের কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নটির উন্নয়নে যোগ্যতার প্রশ্নে আবুল কালাম সেরা। তাই তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।’

‘মুক্তিপণ আদায়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে আবারও একতরফা নির্বাচনের দাবি আদায় করতেই এখনও তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার(২১ মার্চ) রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারর উদ্দেশ্য খালেদা জিয়ার কাছ থেকে একতরফা ভোটের জন্য মুক্তিপণ আদায় করা। তিনি চান বেগম জিয়া যেন তার ভোটারবিহীন নির্বাচনে সমর্থন দিয়ে আবারও তাকে প্রধানমন্ত্রী থাকার সুযোগ করে দেন। কিন্তু শেখ হাসিনা মনে হয় ভুলে গেছেন খালেদা জিয়া এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না গিয়ে আপসহীন উপাধি পেয়েছিলেন।

একতরফা নির্বাচন বিপদমুক্ত করতেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার একতরফা ক্ষমতা গ্রহণের পথে বেগম জিয়াকে বাধা মনে করেন। তাছাড়া বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তাও প্রধানমন্ত্রীর মনে জ্বালা ধরায়। এজন্য তাকে (খালেদা) কারাগারে আটকে রেখেছেন।

‘খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই’গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ‘ঠাকুর ঘরে কেরে, আমি কলা খাইনি’ প্রবাদের মতো।

খালেদা জিয়ার উপর চাপ প্রয়োগ করে কোনো লাভ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার নামে দায়ের করা মামলা রাজনৈতিক। তাকে মিথ্যা মামলার রায়ে কারাগারে পাঠানো রাজনৈতিক। তার জামিন বিলম্ব রাজনৈতিক এমনকি জামিন স্থগিতও রাজনৈতিক।

এসময় তিনি আরও বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই, এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল ভোটে জয় লাভ করে ক্ষমতায় আসবে।

দুর্ণীতি দমন কমিশন(দুদক)এর সমালোচনা করেন রিজভী বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকে অথচ তাদের ব্যাপারে দুদক রাতকানা বাদুড়ের মতো আচরণ করছে। খালেদা জিয়া ও বিএনপির পেছনে পড়ে থাকতেই যেন দুদকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

‘খালেদা জিয়া বের হতে পারবেন না’অ্যাটর্নি জেনারেলের এমন বক্তব্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, সরকারের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম কাজ করছেন। মনে হচ্ছে তিনি চীফ জাস্টিসের উপরে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির যে কঠিন ভাবনা, আসতে পারে সফলতা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী জোর প্রচারণা চালালেও বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটে হযরত শাহ জালাল (র.) ও হযরত শাহ পরান (র.) এর মাজার জিয়ারত করে গত ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এরপর তিনি বিভাগীয় এবং জেলা শহরে সফর অব্যাহত রেখেছেন।

আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একটি মামলার রায়কে সামনে রেখে গত ৫ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহ জালাল (র.) ও হযরত শাহ পরান (র.) এর মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে যান। ওই দিন সকালে রওনা দিয়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে পৌঁছান। এরপর সার্কিট হাউসে দুপুরের খাবার খান। পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে হযরত শাহ জালাল (রঃ) ও শাহ পরান (রঃ) এর মাজার জিয়ারত করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

তখন অনেকে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচারণার এক সপ্তাহের মধ্যেই খালেদা জিয়া কৌশলে সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া সিলেটে কোনো সমাবেশ করেননি। ওই দিন ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার দিকে খালেদা জিয়া আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর থেকেই তিনি এখন পর্যন্ত কারাগারে আছেন।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা তার মুক্তি বিষয়ে আইনি এবং রাজনৈতিক -দুই প্রক্রিয়ায়ই সোচ্চার রয়েছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন, অনশন, কালো পতাকা প্রদর্শন এবং গণস্বাক্ষরসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

অন্যদিকে আইনিভাবেও তারা খালেদার মামলা মোকাবেলা করছেন। খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়ার পর নিম্ন আদালত থেকে তার মামলার নথি পেতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগে আইনজীবীদের। এরপর নথি পেলে খালেদার আইনজীবীরা হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলের শুনানির পর বিচারক কোনো আদেশ না দিয়ে নিম্ন আদালত থেকে মামলার নথি তলব করেন।

মামলার নথি আসতে ১৫ দিন সময় লাগে। পরে খালেদা জিয়াকে চারটি কারণে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ওই জামিন আদেশের স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে লিভ টু আপিলের আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুদকের আইনজীবীরা। পরে বিচারক ওই আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণ বেঞ্চে পাঠান। পরে আপিল আদালত দুদক এবং রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল গ্রহণ করেন এবং খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আবেদনের ওপর ৮ মে পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন।

সর্বশেষ খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী লর্ড কারলাইলকে নিয়োগ দেয় বিএনপি। কারলাইল খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বিভিন্ন ধরনে সহয়তা দেবেন এবং বিচার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড মেনে চলা হচ্ছে কিনা- সে বিষয়টিও লক্ষ্য করবেন। খালেদা জিয়া দীর্ঘ আইনি প্যাঁচে পরে জামিন পাওয়ার জন্য আইনজীবীদের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি কারাগারে থাকার কারণে দলের কার্যক্রমে অনেকটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও তা ঠিকমতো পালন করতে পারছেন না দলের নেতাকর্মীরা। কেননা তারা কর্মসূচি পালন করতে গেলেই পুলিশ তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করছে।

সম্প্রতি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং জলকামান দিয়ে পানি মারে। এতে দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ জোর প্রচারণা চালালেও বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে ব্যস্ত।

আগামী ৩১ মার্চ খুলনা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা -সে বিষয়টিও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। দলীয় নেতাকর্মীরা এ নিয়ে কিছু বলছেনও না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন গতকাল খোলা কাগজকে বলেন, এখনো তো তফসিল ঘোষণা হয়নি। আগে ঘোষণা হোক। তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে এখনো আমাদের দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। সময় আসুক। দেখি আমরা কী করব।

আরো পড়ুন>> বিদেশীদের যৌন কাজের টার্গেট হচ্ছে রোহিঙ্গা মেয়েরা

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অল্পবয়সী মেয়েরা বিদেশীদের যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে। কক্সবাজার থেকে যৌন ব্যবসার জন্য রোহিঙ্গা মেয়ে ও শিশুদের পাচার করা হচ্ছে। বিদেশী খদ্দের সেজে এমন তথ্য পেয়েছে একটি দল।

একটি অনুসন্ধানী দল এবং ফাউন্ডেশন সেন্টিনেল নামের অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি কক্সবাজার গিয়েছিল এমন ব্যবসার সাথে জড়িত নেটওয়ার্ক গুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে। খবর-বিবিসি

অনুসন্ধান শুরুর পর স্থানীয় ছোট হোটেল ও সৈকতের রেজর্ট থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দালালদের টেলিফোন নম্বর যোগাড় হয়ে গেলো। এই হোটেল ও রিসোর্টে যৌন কর্মকাণ্ডের জন্য রুম ভাড়া পাওয়া যায়।

পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েই অনুসন্ধানী দলটি এসব নম্বরে ফোন করে দালালদের কাছে জানতে চায় বিদেশীদের জন্য অল্পবয়সী রোহিঙ্গা মেয়ে পাওয়া যাবে কিনা।

এর উত্তরে টেলিফোনের ওপার থেকে এক দালাল জানায় ‘অল্পবয়সী মেয়ে আছে কিন্তু রোহিঙ্গা মেয়ে কেন খোজা হচ্ছে? ওরা তো খুব নোংরা’।

আরো অনুসন্ধানে দেখা গেলো রোহিঙ্গা মেয়েদের সেখানে সবচাইতে সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। পতিতাবৃত্তির ক্ষেত্রেও তারা সেখানে সবচাইতে নিচের সারিতে রয়েছে।

অনুসন্ধানী দলটি দালালকে জানালো যত দ্রুত সম্ভব তারা এসব মেয়েদের সাথে রাত কাটাতে চায়। খুব দ্রুতই বিভিন্ন দালালদের কাছ থেকে রোহিঙ্গা মেয়েদের ছবি আসতে শুরু করলো। যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছর। বলা হল ছবির মেয়েদের পছন্দ না হল এমন আরো বহু আছে। চাইলেই পাওয়া যাবে। এভাবে এত রোহিঙ্গা মেয়ে পাওয়া গেলো যা খুবই ভয়াবহ।

যখন খদ্দের থাকে না তখন এসব মেয়েরা অনেক সময় দালালদের বাড়িতে রান্নাবান্না বা ধোয়ামোছার কাজ করে বলেও জানা গেলো।

অল্পবয়সী মেয়েরা ‘ঝামেলা’ করে বলে তাদের দ্রুত বিদায় করে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

দালালদের সাথে কথাবার্তার রেকর্ডিং ও ভিডিও স্থানীয় পুলিশকেও দেয়া হয়েছে। পুলিশের একটি ছোট দলকে অভিযানে দেয়া হয়।

দালালদের একজনকে পুলিশ খুব দ্রুতই চিনে ফেলে। বলা হয় সে সম্ভবত পুলিশেরই তথ্য দাতা অথবা অপরাধী কেউ হবে।

অভিযানের অংশ হিসেবে বিবিসির দলটি কক্সবাজারের ঐ দালালকে ফোন করে। ছবিতে দেখা দুটো মেয়েকে রাত আটটায় শহরের একটি নামি হোটেলে পাঠাতে বলা হয়।

ফাউন্ডেশন সেন্টিনেলের এক কর্মী অনুবাদক হিসেবে হোটেলের বাইরে অপেক্ষা করছিলো।

হোটেলের কার পার্কে অপেক্ষা করছিলো পুলিশ। রাত আটটার দিকে বেশ কিছু ফোন কলের পর একটি গাড়িতে করে ড্রাইভারের সাথে ছবিতে দেখা মেয়ে দুটিকে পাঠানো হয়।

বিদেশী খদ্দের সেজে থাকা ব্যক্তিটি জানতে চায় আজ রাতের পরে আরো মেয়ে পাওয়া যাবে কিনা। গাড়ির চালক সম্মতি সূচক মাথা নাড়ে। টাকা হস্তান্তরের পরই পুলিশ গাড়ির চালককে গ্রেফতার করে। মেয়ে দুটিকে উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। দারিদ্র আর পতিতাবৃত্তির জালে যেন এই মেয়ে দুটি আটকে গেছে। তারা জানায় পতিতাবৃত্তি ছাড়া জীবন চালানো তাদের জন্য খুব কঠিন।

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও শিশু পাচারে খুব শক্তিশালী নেটওয়ার্ক দরকার হয়। এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট এখন যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রোহিঙ্গা মেয়েদের বাংলাদেশের ঢাকা, নেপালের কাঠমান্ডু ও ভারতের কোলকাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

কোলকাতায় ব্যস্ত যৌন ব্যবসায় এরকম অনেক নারীদের পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে মিলেমিশে যাচ্ছে তারা। এর পর তাদের আজ খোঁজ মিলছে না।

ঢাকায় পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে গিয়ে জানা গেলো কিভাবে ইন্টারনেটের সহায়তায় পাচারকারীরা মেয়েদের পাচার করে।

এজন্য গড়ে উঠেছে নানা ফেইসবুক পাতা ও এনক্রিপটেড বা গোপন ওয়েবসাইট।

এমন ওয়েবসাইটও পাওয়া গেলো যেখানে কিভাবে রোহিঙ্গা মেয়েদের ব্যবহার করা যায় সেনিয়ে ধাপে ধাপে তথ্য দেয়া হয়েছে।

কিভাবে ধরা পরার হাত থেকে বাঁচা যায়, কোন এলাকায় সবচাইতে বেশি শিশু পাওয়া যায় এমন সব তথ্য দিয়েছে এক ব্যক্তি।

এই ওয়েবসাইটটি পুলিশ সরিয়ে ফেলেছে। তবে তার আগে সেটি যাচাই করে জানা গেছে কিভাবে শিশুকামী ও পাচারকারীদের টার্গেট হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিশু ও নারীরা।

বাংলাদেশে নতুন সেক্স ইন্ডাস্ট্রি গড়ে না উঠলেও যৌনকর্মী হিসেবে কাজের জন্য মেয়ে সরবরাহ বেড়ে গেছে। আর সেটির অন্যতম শিকার রোহিঙ্গা মেয়েরা।

দুই কিশোরীর করুণ গল্প

মিয়ানমারে পরিবারের লোকজনের হত্যাকাণ্ডের পর চৌদ্দ বছর বয়সী আনোয়ারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন।

বিপদগ্রস্ত এই কিশোরীর সেসময় সাহায্য খুবই দরকার ছিল। আর এই অসহায়ত্বের সুযোগটিই নিয়েছে পাচারকারীরা।

আনোয়ারা বলেন, ‘একদিন একটি গাড়িতে করে কয়েকজন মহিলা এলো। তারা জানতে চাইলো আমি তাদের সাথে যাবো কিনা’।

তাদের প্রতিশ্রুতি ছিল নতুন জীবনের। তাদের সাথে যেতে রাজি হওয়ার পর আনোয়ারাকে গাড়িতে তোলা হল এবং কক্সবাজার নিয়ে যাওয়া হল।

তিনি বলেন, ‘খুব বেশিক্ষণ হয়নি তার আগেই ওরা আমার কাছে দুটো ছেলে নিয়ে এলো। তারা আমাকে ছুরি দেখালো। পেটে ঘুষি মারলো। আমি রাজি হচ্ছিলাম না দেখে ওরা আমাকে মারতে থাকলো। এক পর্যায়ে ওরা আমাকে ধর্ষণ করলো।’

বাংলাদেশের কক্সবাজারে ক্যাম্পগুলোতে নারীদের যৌন নির্যাতন ও যৌন পেশায় জড়িয়ে পরার এমন অনেক ঘটনার বর্ণনা পাওয়া গেছে।

অল্প বয়সী নারী ও শিশুরা এর মূল টার্গেট। বিপদগ্রস্ত এই নারী ও শিশুদের মূলত কাজের লোভ দেখিয়ে ক্যাম্প থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের অভিভাবকরা বলছেন, দেশের বাইরে কাজ, রাজধানী ঢাকায় বাড়িঘরে গৃহকর্মীর কাজ বা হোটেলে কাজের অনেক প্রস্তাব আসছে তাদের কাছে।

মারাত্মক ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বিশৃঙ্খল পরিবেশ পাচারকারীদের সুযোগ যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

মাসুদা নামের আর এক কিশোরী তার কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলছেন, ‘আমি জানতাম আমার কপালে কি আছে। যে মহিলা আমাকে কাজ দেবার কথা বলেছিল সে একজন রোহিঙ্গা। অনেকদিন আগে এখানে এসেছে। সবাই জানে যে সে লোকজনকে যৌন কাজে সহায়তা করে। আমার কোনো উপায় ছিল না কারণ এখনো আমার জন্য কিছুই নেই’।

রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনের ভরসা নেই। ক্যাম্পের জরাজীর্ণ জীবনই তাদের ভবিষ্যৎ। তা থেকে বাঁচতে চেয়েছিলেন মাসুদা। এখন তিনি একটি স্থানীয় এনজিওর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

মাসুদা বলেন, ‘আমার পরিবার নিখোঁজ হয়ে গেছে। আমার কোন অর্থকড়ি নেই। মিয়ানমারে আমি ধর্ষণের শিকার হয়েছি। আমি একসময় আমার ভাইবোনের সাথে খেলা করতাম। এখন খেলা কাকে বলে সেটাই ভুলে গেছি।’

যে ৪ কারণে খালেদাকে ‘আটকে’ রাখার শঙ্কায় বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ হওয়ায় শঙ্কায় আছেন দলের নেতা-কর্মীরা। তারা মনে করছেন, খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চান। কারণ খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে তিনি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন না। যার প্রভাব নির্বাচনে পড়বে। শীর্ষ একাধিক নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এর পেছনে চারটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। কারণগুলো হলো—

১) আগামী নির্বাচনের আগে যাতে খালেদা জিয়া জনগণের কাছে যেতে না পারেন।

২)বিএনপিকে ভাঙা।

৩) খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে আগামী নির্বাচনের বাইরে রাখা।

৪) নির্বাচনকালীন সরকার-ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপিকে চাপে রাখার জন্য, যাতে বিএনপি এই দাবি নিয়ে নির্বাচনের আগে মাঠে নামতে না পারে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমরা সকল প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করার চেষ্টা করছি। নেত্রীর জামিনের চেষ্টা করছেন আমাদের আইনজীবীরা। ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কারলাইলকে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি পরামর্শ দিবেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার রাজনীতি বাস্তবায়নের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে। কারণ খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তিনি যাতে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের কাছে যেতে না পারেন সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নীল নকশার অংশ হিসেবে খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য করে নির্বাচন থেকে বিএনপিকে বাইরে রাখতে চায়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। গত সোমবার দেওয়া এ আদেশে একইসঙ্গে হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানির দিন আগামী ৮ মে ধার্য করা হয়েছে। এর ফলে এ সময়ের মধ্যে কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না বিএনপি প্রধান।

এদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা ৩৬ মামলায় দেশের আইনজীবীদের সহযোগিতা ও আইনি পরামর্শক হিসেবে ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কারলাইলকে নিয়োগ দেয়ার কথা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার এই নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন।

তিনি জানান, দেশে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আইনি পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হলে লর্ড কারলাইল বাংলাদেশেও আসবেন।

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের আদেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে গত সোমবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষোভের সঙ্গে বলছি, এই আদেশে সরকারের যে ইচ্ছা, সেই ইচ্ছাই প্রতিফলিত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে দীর্ঘদিন রেখে দেওয়ার অর্থই হচ্ছে তাদের মতো করে একতরফা নির্বাচন দেখিয়ে আবার ক্ষমতায় চলে আসা। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এরই মধ্যে বলেছেন, এটা এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এটা ডিসাইডেড, ডান।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ভয় পাচ্ছে। এই জন্য খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হচ্ছে। তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। টাকা চুরি মামলায় তাকে জামিন না দেওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার যা করছে তা ভুল করছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি। ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন দাখিল করেন খালেদা জিয়া। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সেটি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। পরে চার যুক্তিতে গত ১২ মার্চ চার মাসের জামিন দেন। কিন্তু আপিল বিভাগ তা স্থগিত করেন এবং শুনানির জন্য নতুন দিন ঠিক করেছেন।

বিএনপির সঙ্গে ব্রিটিশ আইনজীবীর কি সম্পর্ক? যা জানা গেল

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলায় আইনি সহায়তার জন্য নিয়োগ পাওয়ার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্যের লর্ড সভার সদস্য ও আইনজীবী লর্ড কার্লাইল। এই আইনজীবীর ভাষ্য, বিএনপির সঙ্গে তাঁর এই সম্পর্ক একান্ত পেশাদারির। এ কাজের জন্য তিনি আনুপাতিক হারে ফি পাবেন।

খালেদা জিয়ার মামলায় আইনি সহায়তা দিতে কার্লাইলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসার পর নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কার্লাইলের মতামত জানতে চাওয়া হয়। ই-মেইলে প্রথম আলোর করা প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

ব্রিটিশ এই আইনজীবী বলেন, লর্ড সভার সদস্যপদের সঙ্গে তাঁর আইনজীবী হিসেবে কাজের কোনো সম্পর্ক নেই। একজন পেশাজীবী হিসেবে তিনি খালেদা জিয়ার পক্ষে পরামর্শ দেবেন।

হাউস অব লর্ডসের প্রয়াত সদস্য লর্ড অ্যাভবেরি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে বিবদমান প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সময়-সময় লন্ডনে সংলাপের আয়োজন করতেন। ২০১৬ সালে লর্ড অ্যাভবেরি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর লর্ড সভার সদস্য হিসেবে কার্লাইল ওই সংলাপ আয়োজনের দায়িত্ব নেন। তাঁর আমন্ত্রণে এ পর্যন্ত লন্ডনে দুই দফা সংলাপের আয়োজন হয়।

একটা ‘মধ্যস্থতাকারীর’ ভূমিকায় থাকা অবস্থায় বিএনপি নেত্রীর আইনজীবী হিসেবে কাজ করার দায়িত্ব নেওয়া কতটা যৌক্তিক—এমন প্রশ্নের জবাবে কার্লাইল বলেন, ‘ওটা সম্পূর্ণ ভিন্ন দায়িত্ব।’

যদি সম্ভব হয় সংলাপের আয়োজনও চালিয়ে যাবেন বলে জানান কার্লাইল।

খালেদা জিয়ার পক্ষে এমন কী ভূমিকা রাখবেন, যা বিএনপি নেত্রীর বাংলাদেশের আইনজীবীরা পারছেন না—এ প্রশ্নে কার্লাইল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের আদালত সরকার থেকে কতটা স্বাধীন এবং ক্ষমতার বিভাজনের বিষয়টি কার্যকর বলে প্রমাণ হওয়া উচিত।’

কার্লাইল নিজেকে আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ বিষয়ের অভিজ্ঞ আইনজীবী বলে দাবি করেন।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমালোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কার্লাইল দাবি করেন, একজন সাংসদ ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি ট্রাইব্যুনালের ঘাটতি নিয়ে কথা বলেছিলেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সময় জামায়াতের পক্ষে কথা বলেছিলেন বলে অভিযোগ আছে—এমন প্রশ্নে কার্লাইল বলেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও মানহানিকর। তিনি বাংলাদেশি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কথা বলেন না।

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে বেশ আগ্রহভরে পড়াশোনা করেছেন জানিয়ে কার্লাইল বলেন, তাঁর বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা আছে। যখন প্রয়োজন হবে, তিনি বাংলাদেশে যাবেন।
প্রথম আলো

নিজেদের দ্বন্দ্ব-কোন্দল মেটাতে নয়া কৌঁশলে আ’লীগ

নির্বাচনের আগে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এই উদ্যোগ চলমান থাকলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল একেবারে দূর করতে পারছে না ক্ষমতাসীন এই দলটি।

ফলে চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য বারবার নির্দেশ দিচ্ছেন। চেষ্টার কমতি নেই সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরেরও। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, নির্বাচনের আগেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল মিটিয়ে ফেলতে সক্ষম হবেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বলেন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ চলমান থাকলেও তা একেবারে দূর করা যাচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পিরোজপুর জেলা সদরে ভাই-ভাই দ্বন্দ্ব। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঢাকায় ডেকে এনে তাদের দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করেছেন।

বৈঠকে দুইজন এক সুরে কথা বললেও এলাকায় গিয়ে তা ভুলে নতুন করে দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছেন। শুধু পিরোজপুর সদর নয়, অনেক জেলা-উপজেলায় রয়েছে এমন দ্বন্দ্ব। কেন্দ্রের কঠোর বার্তা এবং ঢাকায় ডেকে বা মহানগর-জেলা-উপজেলার কর্মিসভায় এ সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে এসেছে সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। দলীয় মনোনয়ন, পদ-পদবি ধরে রাখা, কমিটিতে নিজের লোকদের স্থান দেওয়া, সুবিধাভোগী বনাম সুবিধাবঞ্চিত এবং ব্যক্তিস্বার্থ থেকে সৃষ্ট বিরোধ কোথাও কোথাও মারাত্মক আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন স্থানে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের সঙ্গে সংঘাত ও হানাহানির মতো ঘটনাও ঘটছে।

আওয়ামী লীগের দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো। সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি তাই এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। নির্বাচনের আগেই এসব দ্বন্দ্ব-কোন্দল মিটিয়ে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে হাইকমান্ড থেকে একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল-দ্বন্দ্ব নিরসনে জেলার নেতা ও এমপিদের সঙ্গে ঢাকায় ধারাবাহিক বৈঠক করেছে দলটি।

এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতারাও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে বিরোধ নিরসনের চেষ্টা করেছেন। বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়ে বিরাজমান কোন্দল নিরসনের এই মিশনে বিরোধপূর্ণ জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কোন্দলের কারণ কি তা চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের নির্দেশনাও দেন তিনি। এরই মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। আরও বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে দলের পক্ষ থেকে।

নারায়ণগঞ্জের সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের। টেলিভিশনে লাইভ টকশো থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় দুজনের মধ্যকার এই বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে বারবার। গত বছর সিটি নির্বাচনের আগে তাদের এই দ্বন্দ্ব মেটাতে

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা একাধিকবার উদ্যোগও নেন। ফলে সিটি নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করলেও তাদের সম্পর্কে উষ্ণভাব ফেরেনি। সম্প্রতি ফুটপাতে হকার বসানো নিয়ে দ্বন্দ্বে মেয়র আইভী ও শামীম ওসমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে নেতাকর্মীসহ দুপক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের বিবাদও অনেক দিনের। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিবদমান দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন। তাদের ডেকে সতর্ক করার পাশাপাশি নগর ভবনে এক অনুষ্ঠানে মিলমিশ করিয়ে দেন।

এর পর থেকে প্রকাশ্যে আর কোনো বিরোধ দেখা না গেলেও ঝামেলা এখনও মেটেনি। কমিটিতে নিজেদের লোককে স্থান দেওয়া নিয়ে ভেতরে ভেতরে বিরোধ রয়েছে এই দুই নেতার মধ্যে। এজন্য দক্ষিণের কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন নগরের অনেক নেতা।

জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলীর বিরোধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পৃথক পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করার ফলে তাদের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। সম্প্রতি তা চরমে ওঠায় বিভিন্ন অজুহাতে বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির অফিসে দুই দফা বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদেরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় দ্বন্দ্ব মেটাতে তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়াও দেশের জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলের নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি-মন্ত্রী, জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ও পৌরসভা চেয়ারম্যান ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধরণ করেছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে বহিস্কার-পাল্টা বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন স্থানে।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম, পাবনা, নাটোর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, শরীয়তপুর, কুষ্টিয়া, বান্দরবান, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, খাগড়াছড়ি, ফেনী, ফরিদপুর, সিলেট ও সিরাজগঞ্জ জেলাকে বিরোধপূর্ণ এলাকা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব এলাকার কোথাও কোথাও ত্রিধারায়, আবার কোথাও দুই ধারায় বিভক্ত দল। সেখানে নিজেদের মধ্যে বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের সঙ্গে সংঘাত ও হানাহানির মতো ঘটনাও ঘটছে।

বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মারা যান ৩৪ জন। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৩। কিন্তু ২০১৬ সালে তা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়ায় ৮৩ জনে। ২০১৭ সালের প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করা না হলেও এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় দলের কঠোর অবস্থানের কথা প্রায়ই গণমাধ্যমের সামনে বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দলের অভ্যন্তরীণ কলহ জনসম্মুখে আসা খুবই খারাপ দৃষ্টান্ত হয়েছে। জনসম্মুখে পার্টির ভাবমূর্তি নষ্টকারীরা কেউ ছাড় পাবে না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সাম্পাদকম-লীর দুজন সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল। এখানে কিছু সমস্যা থাকবেই। তবে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গেই এই বিষয়গুলোকে নিয়েছি। কারণ সামনে নির্বাচন। ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না। কিন্তু আমরা ঐক্যবদ্ধ না থাকলে অন্যরা সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।

আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য গোলাম কবীর রব্বানী চিনু বলেন, ক্ষমতাসীন দলে কিছু কলহ হয়। তবে আমি মনে করি, আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এখন কোনো কোন্দলের খবর শুনলেই কেন্দ্র থেকে মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দলের সাধারণ সম্পাদক নিজেই কাজটি করছেন। প্রথম পর্যায়ে এলাকায় সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তা না হলে সাংগঠনিক সম্পাদককে বলা হয়। তিনি ব্যর্থ হলে সাধারণ সম্পাদক নিজেই তাদের নিয়ে বসেন। এক প্রশ্নের জবাবে চিনু আরও বলেন, আস্তে আস্তে এটা আরও কমে যাবে। আশা করি, নির্বাচনের আগেই অভ্যন্তরীণ কলহ মিটিয়ে ফেলতে সক্ষম হব।

সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, নির্বাচন অনেক কাছে চলে এসেছে। আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনের আগেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়াও তিনি বলেন, আসন নিয়ে যদি কিছু বিরোধ থাকে তা সমঝোতার মাধ্যমে মিটানো হবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলকে আরও শক্তিশালী এবং গতিশীল করতে তৃণমূলের সঙ্গে মতবিনিময় চলবে, চলছে। ভোটারদের কাছে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- তুলে ধরা হবে। কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা হবে।

বিডি২৪লাইভ/

খালেদার জামিন স্থগিতের প্রতিবাদে বগুড়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বগুড়া শহরের নবাববাড়ি এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি।

সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান, সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শোকরানা, বিএনপি নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর তালুকদার হেনা, একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির,

একেএম তৌহিদুল আলম মামুন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফজলুল বারী বেলাল, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী মিসেস লাভলী রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা পাপন, বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল প্রমুখ। এসময় জেলা ও পৌর বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, একটি ভুয়া মামলা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে সাজা দেয়া হয়েছে। এ মামলা থেকে বেগম জিয়াকে জামিন দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার ওই জামিন স্থগিত করা হয়েছে।

দ্রুত উক্ত জামিন কার্যকর করে বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে হবে। মুক্তি না দিলে আরো কঠোর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবে দেশের সাধারণ মানুষ।

আজকের কলাম- শুভ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই পারবে উন্নত দেশের পর্যায়ে পৌঁছে দিতে

চরম দুঃসংবাদের পরপরই একটি পরম সুসংবাদ। ঢাকা থেকে নেপালগামী একটি বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ায় অসংখ্য বাঙালি ও অবাঙালি যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে দেশ যখন শোকস্তব্ধ, তার পরপরই বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মদিনে এলো পরম সুসংবাদ—বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত (Least Developed Country) দেশের কাতার থেকে উন্নয়নশীল (Developing) দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ঘোষণা দিয়েছে।

আমি অর্থনীতিবিদ নই। সুতরাং একজন সাধারণ মানুষের মতো এটা বুঝতে পারি, হাসিনা সরকারের আমলে এটা দেশের জন্য একটি বিরাট অর্জন। কতটা বিরাট অর্জন তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন দেশের অর্থনীতিবিদরা।

আমাদের তরুণ অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান কালের কণ্ঠ পত্রিকাতেই (১৭ মার্চ) ‘জয়তু উন্নয়নশীল বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি নিবন্ধে এই অর্জনের সাফল্য দেশটাকে কত দ্রুত উন্নত (Developed) দেশের পর্যায়ে নিয়ে যাবে, তা বিশ্লেষণ করেছেন। হাসিনা সরকারের প্রতিশ্রুতিও তাই।

গণতন্ত্রহীন দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বাধীনতার শত্রু ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ডদান, জঙ্গিবাদ দমন, একটি স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে দেশটিকে দ্রুত উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছানো এবং দ্রুত উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছানোর চেষ্টা একটি সরকারের জন্য কম কৃতিত্বের ও সাফল্যের পরিচায়ক নয়।

দেশটির এই সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘেরও চোখে পড়েছে। কিন্তু চোখে পড়ছে না আমাদেরই একটি তথাকথিত সুধীসমাজের। এই সুধীসমাজের একজন পৃষ্ঠপোষক ড. ইউনূস যখন অর্ধেক নোবেল শান্তি পুরস্কার (যে শান্তি স্থাপনে তাঁর কোনো অবদান নেই) পান, তখন চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘আমরা আজ আনন্দের এভারেস্টে আরোহণ করেছি।’

সে যাই হোক, নোবেল পুরস্কার লাভ ছিল একজন ব্যক্তির সাফল্যের স্বীকৃতি। আর ১৭ মার্চ জাতিসংঘের কাছ থেকে বাংলাদেশ যা পেল তা একটি দেশ ও জাতির অত্যল্পকালের মধ্যে অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতি। সুতরাং এক ব্যক্তির অর্ধ-নোবেল পুরস্কার অর্জনে যদি আনন্দের এভারেস্টে আরোহণ করতে হয়, তাহলে দেশটির এই পরম গৌরবময় অর্জনে, ব্যক্তি নয়, গোটা জাতির, এই সাফল্যে আমাদের কোন এভারেস্টে আরোহণ করা উচিত?

এই সুধীসমাজের অন্যান্য নেতা (ড. কামাল হোসেনসহ) এবং তাঁদের ‘নিরপেক্ষ’ মুখপত্র দুটি তো হাসিনা সরকারের কোনো ভালো কাজই দেখতে পায় না। দেশে সুশাসন নেই, আইনের শাসন নেই, মানুষের জীবনে স্বস্তি নেই, শান্তি নেই, বাক্স্বাধীনতা নেই,

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই—এই নেই নেই চিৎকারেই তারা চারদিক মুখরিত করে রেখেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ড. কামাল হোসেন মস্কোতে গিয়ে এক আলোচনাসভায় বলেছিলেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা দেশ দখল করেছে।’ কী আশ্চর্য, ড. কামাল একসময় যাদের ‘একাত্তরের পরাজিত শত্রু’ আখ্যা দিয়েছিলেন, এখন তিনি ও তাঁর সুধীসমাজ সেই পরাজিত শত্রুদেরই কোনো কোনো প্রচারণা নিজেদের কণ্ঠে ধারণ করেছেন।

আমি হাসিনা সরকারের অন্ধ সমর্থক নই। তারা মন্দ কাজ করলে তাদের সমালোচনা করি এবং এক শ্রেণির আওয়ামী লীগ নেতার ক্রোধের কবলে পড়ি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পার্থক্য এই যে আওয়ামী লীগ অনেক সময় বড় ভুল করে, গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলে আর বিএনপি জেনে-শুনে বড় বড় অন্যায় করে, গণতন্ত্রকে বিলুপ্ত করার চেষ্টা চালায়। অনেক নাস্তিক যেমন বিপদে পড়লে আল্লাহর নাম স্মরণ করে, বিএনপিও তেমনি বিপাকে পড়লে গণতন্ত্রের নাম নেয়।

এই মুহূর্তে দেশপ্রেমিক মানুষের সামনে আওয়ামী লীগ ছাড়া বিকল্প কী আছে? আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। আবার সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে। সেই গণতন্ত্র কানা-খোঁড়া যাই হোক। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দিয়েছে, মৌলবাদের উত্থান ঠেকিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। স্বাধীনতার মূল্যবোধগুলোকে যতটা সম্ভব রক্ষা করেছে।

গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মূল্যবোধগুলোকে ভিত্তি করে আওয়ামী লীগের বিকল্প কোনো দল গড়ে উঠলে তাকে অভিনন্দন জানাতাম। কিন্তু তা তো গড়ে ওঠেনি। সুধীসমাজ তো চেষ্টা করেছিল। পারল না কেন? বিকল্প গড়ার নামে তারা স্বাধীনতার পক্ষের শিবিরে আরো বিভক্তি এনেছে।

হাসিনাবিদ্বেষ ও আওয়ামী লীগবিদ্বেষে ভুগে তারা গণতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমের শত্রুদের বাহুতে শক্তি জুগিয়েছে। দেশে নির্বাচন হলে এই সুধীসমাজ ক্ষমতায় যেতে পারে না। তাদের কোনো কোনো শীর্ষ নেতার জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয়। আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে জয়ী হয় বিএনপি-জামায়াত। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি ভাঙার চেষ্টা শুরু হয়।

আগামী সাধারণ নির্বাচনে তাই সর্বান্তঃকরণে আওয়ামী লীগ জোটের জয় কামনা করি। তাতে গণতন্ত্রের গায়ে যদি একটু ধুলো লাগে লাগুক, কিন্তু গণতন্ত্রের চরিত্র বাঁচবে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী না হলে সুধীসমাজের দ্বারা গঠিত কোনো বিকল্প গণতান্ত্রিক জোট ক্ষমতায় আসবে না।

আসবে ড. কামাল হোসেনের দ্বারা বর্ণিত ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তি’। দেশে আবার শুরু হবে গ্রেনেড হামলার যুগ, হাওয়া ভবন তৈরি করার যুগ। বাংলা ভাইদের উত্থানের যুগ। ইমেলদা ও ইসাবেলাদের স্বৈরশাসনের যুগ। আমাদের একটি সুধীসমাজ ও তাদের ‘নিরপেক্ষ’ দুই পত্রিকা তাই চায় কি?

যতই জীবনের ঝুঁকি আসুক অামরা রাজপথে থাকবো: খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অামীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার নির্বাচনী ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়ন করতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী রেখে তাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। জনগণকে নির্বাচনের বাইরে রেখে ক্ষমতা দখল ও নির্বাচনী প্রকল্প বাস্তয়বায়ন করতে ব্যাংকলুট করছে মেগা দুর্নীতি সরকার।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অায়োজিত ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য করণীয়’ শীর্ষক অালোচনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন । তিনি বলেন, জনগণের ওপর সরকার অাস্থা হারিয়ে ফেলেছে। জনগণও সরকারের ওপর অাস্থা হারিয়েছে। সরকার ও জনগণের সম্পর্ক অাস্থাহীনতার মধ্যে চলছে। জনগণের প্রতিবাদের বিস্ফোরণ ঠেকাতে সরকার জনগণকে নির্দলীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ দিতে চায় না।

আমীর খসরু অারও বলেন, দেশ ও জাতি যে সংকটে অাছে তা আমাদের একহয়ে মোকাবিলা করতে হবে। যতই জীবনের ঝুঁকি আসুক অামরা রাজপথে থাকবো। সরকারের হতাশা এমন পর্যায় গেছে যে, তারা কী করবে তা ঠিক করতে পারছে না। এই কারণে সরকার জনগণের অধিকার একটার পর একটা কেড়ে নিচ্ছে। সরকারের মনে ক্ষমতা হারানের ভয় কাজ করছে। তারা বিচারের মুখোমুখি হওয়াকে নিরাপত্তাহীনতা ভাবছে। আয়োজক দলের চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে ২০দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য রাখেন। উৎস- শীর্ষনিউজ

‘নতুন করে চক্রান্ত দেখছে আওয়ামী লীগ’
নির্বচান বানচালের জন্য দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে, এটি আরও গভীর হবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে এক বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ নেতারা এ ইঙ্গিত দেন। অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের উপর হামলার প্রতিবাদের ২০ মার্চ শহীদ মিনারে ১৪ দলের সমাবেশ সফল করতে এ সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে তাদের (বিএনপি) কথায় খেয়াল রাখবেন। আজকের পর থেকে আরও বেশি ষড়যন্ত্রে মেতে উঠবে তারা।
তিনি বলেন, নয় মাস বাকি নির্বাচনের। জনগণের রায় আমাদের পক্ষে নিতে হবে। তারা ওই নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চক্রান্ত করছে। বিএনপির এই চক্রান্ত প্রতিহতে আওয়ামী লীগের জন্য জনগণের শক্তির বিকল্প নেই। জনগণের শক্তি প্রদর্শনের জন্য আমাদের ২০ মার্চের সমাবেশ ও গণজমায়েত। বড় সমাবেশ করে আমাদের দেখাতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতকে কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসতে দেয়া যাবে না। আল্লাহ না করুক, তারা ক্ষমতায় এলে এই বাংলাদেশ অন্ধকার হয়ে যাবে। তবে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ যেমন ছয় হাঁকিয়ে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছে বাংলাদেশকে, শেখ হাসিনাও আগামী নির্বাচনে লাস্ট ছয় মারবেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর যে হামলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক শক্তির এ হামলা নতুন নয়। একাত্তরেও তারা এটি করেছে। পচাত্তরেও করেছে। এখনও তাদের দোসর বিএনপি-জামায়াত অশুভ শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে গুপ্তহত্যা ও গুপ্তহামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে, এখনও তাদের এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাঝে তারা (হামলাকারী) একটু চুপ ছিল। এখন আবার শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো এই অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তচিন্তার মানুষের উপর হামলা দেখতে চায় না। ‘কোনো অপরাধ না করে বিএনপি নেত্রী কারাগারে’ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে হানিফ বলেন, তাহলে কী আদালতের প্রতি আপনার আস্থা নেই। আদালত সকল তথ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করে এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় রায় দিল। খালেদা জিয়া সেই রায়ে কারাভোগ করছেন, আর আপনারা বলেন তিনি নিরপরাধ! অবাক হই আপনাদের কথা শুনে। আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, উগ্রবাদী সকল সংগঠনের পেছনে মদদ দিচ্ছেন ও কলকাঠি নাড়ছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। তার কাজই হচ্ছে, দেশে অশান্তি তৈরি করা। হত্যা-খুনের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা। দেশকে মধ্যম আয়ে উন্নীত করতে হলে মাদার অব কিলার খালেদা জিয়া এবং এই পলিটিক্যাল টেরোরিস্ট তারেক রহমানকে বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করতে হবে।

বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের জন্যই এই ১৪ দল গঠন হয়েছে। আমরা নানা সময়ে এই সাম্প্রদায়িক শক্তির আক্রমণ দেখেছি, এখনও দেখছি। এগুলো প্রতিহতে এবং দেশকে নিয়ে সব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের জবাবে আমাদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বের সেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।

আগামীকালের সমাবেশের মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের ঐক্য প্রদর্শন করবো- যোগ করেন খালিদ মাহমুদ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম ‍মুরাদ, সহ সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি, যুগ্ম সম্পাদক কামাল চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন প্রমুখ।

মীর কাশেম আলীর ফাঁসি থামাতে চেয়েছিলেন লর্ড কার্লাইল

বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলা মোকাবেলা ও আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সবগুলো মামলার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য হবেন তিনি।

দেশীয় আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় সহয়োগিতা করবেন। মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেবেন।মির্জা ফখরুল বলেন, লর্ড কারলাইল লন্ডনের প্রখ্যাত আইনজীবী।

তিনি ব্রিটিশ কুইন্স কাউন্সিল ও হাউস অব লর্ডসের সদস্য। এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ দেয়া মানে দেশীয় আইনজীবীরা অদক্ষ নয়। লর্ড কারলাইল এখন থেকে আমাদের আইনজীবীদের পরামর্শ দেবেন। একই সঙ্গে তিনি মামলায় সার্বিক বিষয়ে কাজ করবেন। প্রয়োজনে তিনি দেশে আসবেন।ফখরুল আরো বলেন, খালেদা জিয়ার নামে ৩৬ টি মামলা দেয়া হয়েছে।

নজিরবিহীন ভাবে মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। এরই পেক্ষিতে প্রবাসী বন্ধুরা যারা ব্রিটেনে জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন তারা ব্রিটেনের আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে প্রখ্যাত আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছেন।

তিনি মামলা পরিচালনায় জেনারেল ‘ল’ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে আমাদের আইনজীবীদেরকে সাহায়তা করবেন।জানা গেছে, পোল্যান্ড থেকে যুক্তরাজ্যে অভিবাসিত ইহুদি আইনজীবী লর্ড কার্লাইল বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কঠোর সমালোচক। তিনি এই বিচারের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে নানা সভা, সেমিনার এবং ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে দূতিয়ালির চেষ্টা করেছেন।

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ‘নিরপেক্ষতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার’ জন্য আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি জানান লর্ড কার্লাইল। জেনেভাস্থ ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশন ফর হিউম্যান রাইটস-এর হাই কমিশনার নাভী পিল্লাই বরাবর লিখিত এক চিঠিতে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপও চেয়েছিলেন লর্ড কার্লাইল।

আলবদর নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও মীর কাশেম আলীর ফাঁসি কার্যকর না করার দাবিতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের কাছে চিঠিও লিখেছিলেন ব্রিটিশ এই আইনজীবী।২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন চলাকালে বাংলাদেশে ‘গ্রহণযোগ্য’ সরকার গঠনে উদ্যোগ নিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অনুরোধ করেছিলেন লর্ড কার্লাইল।ফখরুল জানান, লর্ড কার্লাইল ব্রিটেনে দীর্ঘ ২৮ বছর খণ্ডকালীন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ব্রিটিশ হাইকোর্টের বিচারক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন। তিনি ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের স্বাধীন সমালোচক ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ। purboposhchim